একটা রেষ্টুরেন্টে বসে চা খাচ্ছি। আমার পিছনে দুটো টেবিলের
পরেই বসে আছে একটা ছেলে, একটা মেয়ে। ওদের দেখে মনে হচ্ছিলো ওরা প্রেমিক- প্রেমিকা হবে। আমি আনমনে চা খাচ্ছি।
পিছনে একবার তাঁকিয়ে ছিলাম, পরে আর তাঁকাইনি। চা এর কাপে দু এক চুমুক দিতে না দিতেই পিছন থেকে একটা থাপ্পরের স্পষ্ট শব্দ শোনা গেলো। এরকম স্পষ্ট থাপ্পরের শব্দ সাধারণত ছেলেরাই তুলতে পারে। গরম চা এ চুমুক দিতে দিতে তাঁকালাম ওদের দিকে।
বুঝতে চেষ্টা করছি কি হয়েছে বা আর কি হতে পারে।
ত যা যা ঘটলো এভাবেই ছিলো...
- পল্লব তুমি আমাকে থাপ্পর দিতে পারলে?
- তোমার মত বিশ্বাস ঘাতক মেয়েকে থাপ্পর দেয়াও একটা বোকামী কাজ।
- তুমি এসব কি বলছো পল্লব!
- শোনো কাকলি, তুমি আমার সাথে অনেক বিশ্বাস ঘাতকতা করেছো আর না। আই জাস্ট নীড এ ব্রেক।
- তুমি এরকম কেনো করছো বলবে ত?
- তুমি কি করেছো তুমি জানোনা?
- না। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে পল্লব।
- আমি ভুল করছি? ভুল ত তুমি করেছো, এখন না জানার ভান করছো।
- পল্লব প্লীজ এরকম করোনা আমার কান্না পাচ্ছে।
- তুমি কাঁদতে থাকো আমি গেলাম।
- পল্লব, পল্লব যেওনা, প্লীজ পল্লব। কেনো ছেলেটা এরকম করলো? আর কিইবা মেয়েটার দোষ?
আমার মত সাধারণ দর্শক কিছুই জানতে পারেনি সেদিন। এরপর হঠাৎ একদিন একটা পার্কে সেই ছেলেটাকে দেখলাম। সেদিনের
ঘটনার শেষটা না জানতে পারলে যে শান্তি আসবেনা মনে।
তাই কৌতূহল বশত ছেলেটার সাথে অনেক কথা বার্তার পর সেদিনের সেই ঘটনার কথা জানতে চাইলাম। ছেলেটা আমার কথা শুনেই কেনো জানি ইমোশনাল হয়ে পড়লো। চোখে পানি ছলছল করছে। এই বুঝি তার অশ্রুজোড়া শিক্ত হবে।
ছেলেটা যা বললো..
"কাকলি। কাকলিকে আমি অনেক ভালোবাসি। জীবনে কল্পনাও
করতে পারিনি যে ওর মত একটা মেয়েকে আমার প্রেমিকা হিসেবে পাবো। আমি ওকে যতটা না ভালোবাসি তার থেকেও ও আমাকে ওর জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে। আমি কোনোদিনও
চাইনি ওকে হারাতে, ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। সেদিন রেষ্টুরেন্টে কাকলির সাথে ওরকম বিহাভ করাটা ছিলো নিছক অভিনয়। শুধুমাত্র ওকে দূরে ঠেলে দেবার জন্য। আমি আমার এই অভিশপ্ত জীবনের সাথে ওকে জড়াতে চাইনা। আমি একজন হার্টের রোগী।
ডাঃ বলেছেন....
বাঁচা-মরা সব উপরওয়ালার হাতে, কিন্তু তোমার হার্টে এমন
একটা প্রোবলেম আছে, যার কারনে তোমার মৃত্যু হঠাৎ রাগের মূহুর্তে হয়ে যেতে পারে। এটা আমাদের পারিবারিক একটা রোগ বাবাও এই রোগেই মারা যান। আমার ও হয়ত সেটাই লেখা আছে।
সেদিন রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে সিএনজিতে উঠতেই আমার স্ট্রোক হয়। ঐটা ছিলো আমার দ্বিতীয় স্ট্রোক। আর একবার হলে হয়ত......।
তাই সেদিন এত কষ্টের মাঝেও অভিনয় করে ওকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। এখন ও ভালো আছে। তবুও মাঝে মাঝে ফোন দেয়। আমি ফোন রিসিভ করিনা।
পুরনো মায়াটাকে নতুন করে বাড়াতে চাইনা। ওর বিয়ে হয়ে গেছে। শুনেছিলাম বিয়ের আগে ও সুইসাইড করার চেষ্টা করেছিলো।
এখনও নাকি আমার জন্য কাঁদে। খুব কষ্ট হয় ওর কথা মনে পড়লে।
খুব খুব কষ্ট। আমি আর কিছু জিগ্যেস করতে পারিনি। কখন যে নিজেই নিজের অজান্তে কেঁদেছিলাম বুঝতেই
পারিনি।
পরেই বসে আছে একটা ছেলে, একটা মেয়ে। ওদের দেখে মনে হচ্ছিলো ওরা প্রেমিক- প্রেমিকা হবে। আমি আনমনে চা খাচ্ছি।
পিছনে একবার তাঁকিয়ে ছিলাম, পরে আর তাঁকাইনি। চা এর কাপে দু এক চুমুক দিতে না দিতেই পিছন থেকে একটা থাপ্পরের স্পষ্ট শব্দ শোনা গেলো। এরকম স্পষ্ট থাপ্পরের শব্দ সাধারণত ছেলেরাই তুলতে পারে। গরম চা এ চুমুক দিতে দিতে তাঁকালাম ওদের দিকে।
বুঝতে চেষ্টা করছি কি হয়েছে বা আর কি হতে পারে।
ত যা যা ঘটলো এভাবেই ছিলো...
- পল্লব তুমি আমাকে থাপ্পর দিতে পারলে?
- তোমার মত বিশ্বাস ঘাতক মেয়েকে থাপ্পর দেয়াও একটা বোকামী কাজ।
- তুমি এসব কি বলছো পল্লব!
- শোনো কাকলি, তুমি আমার সাথে অনেক বিশ্বাস ঘাতকতা করেছো আর না। আই জাস্ট নীড এ ব্রেক।
- তুমি এরকম কেনো করছো বলবে ত?
- তুমি কি করেছো তুমি জানোনা?
- না। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে পল্লব।
- আমি ভুল করছি? ভুল ত তুমি করেছো, এখন না জানার ভান করছো।
- পল্লব প্লীজ এরকম করোনা আমার কান্না পাচ্ছে।
- তুমি কাঁদতে থাকো আমি গেলাম।
- পল্লব, পল্লব যেওনা, প্লীজ পল্লব। কেনো ছেলেটা এরকম করলো? আর কিইবা মেয়েটার দোষ?
আমার মত সাধারণ দর্শক কিছুই জানতে পারেনি সেদিন। এরপর হঠাৎ একদিন একটা পার্কে সেই ছেলেটাকে দেখলাম। সেদিনের
ঘটনার শেষটা না জানতে পারলে যে শান্তি আসবেনা মনে।
তাই কৌতূহল বশত ছেলেটার সাথে অনেক কথা বার্তার পর সেদিনের সেই ঘটনার কথা জানতে চাইলাম। ছেলেটা আমার কথা শুনেই কেনো জানি ইমোশনাল হয়ে পড়লো। চোখে পানি ছলছল করছে। এই বুঝি তার অশ্রুজোড়া শিক্ত হবে।
ছেলেটা যা বললো..
"কাকলি। কাকলিকে আমি অনেক ভালোবাসি। জীবনে কল্পনাও
করতে পারিনি যে ওর মত একটা মেয়েকে আমার প্রেমিকা হিসেবে পাবো। আমি ওকে যতটা না ভালোবাসি তার থেকেও ও আমাকে ওর জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে। আমি কোনোদিনও
চাইনি ওকে হারাতে, ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। সেদিন রেষ্টুরেন্টে কাকলির সাথে ওরকম বিহাভ করাটা ছিলো নিছক অভিনয়। শুধুমাত্র ওকে দূরে ঠেলে দেবার জন্য। আমি আমার এই অভিশপ্ত জীবনের সাথে ওকে জড়াতে চাইনা। আমি একজন হার্টের রোগী।
ডাঃ বলেছেন....
বাঁচা-মরা সব উপরওয়ালার হাতে, কিন্তু তোমার হার্টে এমন
একটা প্রোবলেম আছে, যার কারনে তোমার মৃত্যু হঠাৎ রাগের মূহুর্তে হয়ে যেতে পারে। এটা আমাদের পারিবারিক একটা রোগ বাবাও এই রোগেই মারা যান। আমার ও হয়ত সেটাই লেখা আছে।
সেদিন রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে সিএনজিতে উঠতেই আমার স্ট্রোক হয়। ঐটা ছিলো আমার দ্বিতীয় স্ট্রোক। আর একবার হলে হয়ত......।
তাই সেদিন এত কষ্টের মাঝেও অভিনয় করে ওকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। এখন ও ভালো আছে। তবুও মাঝে মাঝে ফোন দেয়। আমি ফোন রিসিভ করিনা।
পুরনো মায়াটাকে নতুন করে বাড়াতে চাইনা। ওর বিয়ে হয়ে গেছে। শুনেছিলাম বিয়ের আগে ও সুইসাইড করার চেষ্টা করেছিলো।
এখনও নাকি আমার জন্য কাঁদে। খুব কষ্ট হয় ওর কথা মনে পড়লে।
খুব খুব কষ্ট। আমি আর কিছু জিগ্যেস করতে পারিনি। কখন যে নিজেই নিজের অজান্তে কেঁদেছিলাম বুঝতেই
পারিনি।
Comments
Post a Comment