Skip to main content

আবার প্রেমে পড়লাম, অবন্তীর ভালোবাসার প্রেমে

[align=left]সকাল ৯টা। কাঁথাটা গায়ে চড়িয়ে, ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ মনে হল রুমে বৃষ্টি হচ্ছে। একটু পর খেয়াল করলাম, আসলে আমার ফোনের রিংটোন ই বৃষ্টির শব্দ ! ক্লান্ত চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালাম।
.
অবন্তী ফোন দিয়েছে ! প্রায় লাফ দিয়ে বসলাম .বিছানার ওপর। ও যদি জানতে পারে যে এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছি, তবে আমার কপালে শনি আছে। তাই কন্ঠটা একটু পরিষ্কার করে রিসিভ করলাম। বললাম-
.
-হ্যা বাবু, বলো
.
-এতো দেরি হলো কেন রিসিভ করতে? ঘুমাচ্ছিলেন সাহেব?
.
-না আমি তো...
.
-থাক, মিথ্যা বলতে হবেনা। কন্ঠ শুনে বুঝেছি। একদম ৪টায় যদি রিভারভিউ এ না পাই,সত্যি বলছি খুন হবা তুমি। তোমায় খুন করে কাঁদতে পারব না, তাই ৪টায় ই আসবা।
.
-ওক্কে জান ! একদম ৩.৫৯ মিনিট এ আমায় রিভারভিউ এ পাবে।
.
-জানা আছে। আজ প্লিজ দেরি করোনা বাবুটা। প্লিজ বাবু।
.
-আচ্ছা বাবু।
.
আজ প্রায় ৪ সপ্তাহ পরে ও দেখা করতে চেয়েছে। এমনিতে ও খুব একটা দেখা করেনা। কিন্তু দেখা করার সময় দেরি হলে আমারর অবস্থা হয় ভয়াবহ। অবন্তীর কন্ঠ শুনে বুঝলাম, দেরি হলে আজ খুন হবার চান্স আছে, তাই সত্যিই ৪টার আগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু দুপুরে ঘুমাতেই ৩.৪৫ বেজে গেল। তবুও তেমন কিছু হবেনা ভেবে আস্তে আস্তেই তৈরি হচ্ছিলাম।
.
আজ অবন্তীর প্রচন্ড অপছন্দ হলুদ পাঞ্জাবী পরেছি। হলুদ পাঞ্জাবী পরলে ও প্রচন্ড রেগে যায়। আর তখন ওর চোখগুলো আরও মায়াবী লাগে, যার প্রেমে আমি বারবার পড়ি।
.
হেডফোন কানে লাগিয়ে রাস্তায় হাটছি। হঠাত অবন্তীর ফোন-
.
-হ্যা জান, বলো।
.
-৪.১৫ বাজে। আমার কথার কোনোই দাম নাই তোমার কাছে?
.
-না মানে রিক্সা পাইনি। দৌড়ে আসছি এখন।
.
-রাজশাহীতে কোনো কালেই রিক্সার অভাব হয়না।
.
বলেই ফোন কেটে দিল অবন্তী। আমি বুঝে নিলাম, বেশ বড় একটা ধাক্কা আসবে আজ।
.
যখন রিভারভিউ তে পৌছলাম, দেখলাম মহারানী আমার অপেক্ষায় বসে আছেন। আমি একটা ফিছলা হাসি দিয়ে বসতে গেলাম। তখনই ঘটল দুর্ঘটনা। অবন্তী প্রায় চিৎকার করে বলল-
.
-ওঠ শয়তান, আজ সারাদিন তুই আমার সামনে দাড়িয়ে থাকবি।
.
আমি সম্পুর্ন হতাশ হলাম। কারন আজ অবন্তী তুই'করে বলেছে ! এর আগে যতবার এমন হয়েছে, আমি বসতে পারিনি, দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তাই চুপচাপ দাড়িয়ে রইলাম।ও আবার বলল-
.
-ঐ এইডা কি পরেছেন স্যার, হ্যা? হিমু হতে চাও শয়তান? তুই আজ খুন হবি রে।
.
-না মানে...
.
-একদম চুপ ! হেডফোন পরে আছিস কেন শয়তান? আমার কথা তোর বিরক্ত লাগে? এক্ষুনি এটা খুলে আমায় দিবি, নয়ত মার খাবি।
.
-না জান, হেডফোন তো এমনি লাগিয়ে রাখছি। গান চলছে না।
.
-তাই? ফোন বের কর
.
-না জান, আমি সত্যি বলছি
.
-বের কর বলছি শয়তান !
.
আমি ভয়ে ভয়ে ফোনটা দিলাম ওকে। ও যেই হেডফোন খুলল, প্রচন্ড শব্দে বেজে উঠল"লিংকিন পার্ক"এর নাম্ব গানটির এই লাইনটা - I've become so numb !
.
আমি দৌড়ে পালাব ভাবছি, কারন এই গানটা নাকি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পঁচা গান ! কিন্তু আমার কাছে তো এটা পৃথিবীর সেরা গান, ও কেন জানি বোঝেনা এটা। মুখ গোমড়া করে বলল-
.
-তুমি আবার এটা শুনছ !
.
-না মানে প্লে লিস্টে ছিল। তাই বাজছে। আমি ইচ্ছা করে শুনিনি।
.
-আমার সাথে প্রেম করে তুমি অসাড় হয়ে যাচ্ছো?
.
-না মানে, এই গানটা তো এটা মিন করেনা বাবুটা
.
-আমায় শিখাতে আসবানা ! আমি বুঝি তো, আর তোমায় কে বলেছে আমার সাথে দেখা করতে আসতে? যাও নাম্ব হয়ে থাকার দরকার নাই।
.
মেয়েটা কেঁদে ফেলেছে। আমি বুঝিনি এই গানটা এমন ইফেক্ট আনবে ওর ওপর। আমি ইচ্ছে করেই এই গানটা শুনেছি। ওকে রাগানোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ওকে কাঁদানোর ইচ্ছা কখনই ছিল না। আমি কি করব বুঝতে পারলাম না।
.
আমি বুঝতেও পারিনি কখন আমার দুচোখের জল বাধ ভেঙেছে। আস্তে করে বললাম,
.
-বাবুটা, এই গান আর কোনোদিন শুনব না।
.
-কাঁদছ কেন গাধার মত?
.
-আমার রাজকুমারী কাঁদছে যে !
.
-আমি মুছে দিব তোমার চোখের ঐ শুভ্র কষ্ট গুলো?
.
-হু
.
এরপর আমার চোখের অশ্রুগুলো অবন্তীর আলতো .হাতের ছোয়ার মাঝে জায়গা খুজে নিয়ে পালালো আমার কাছ থেকে। অবন্তী কপট রাগ দেখিয়ে বলল,"এমন ছিচ কাঁদুনে বর আমার একদম পছন্দ না, বুঝেছ আমার মেয়ের আব্বু..."
.
আমি আবার নতুন করে প্রেমে পড়লাম, আমার রাজকুমারীর প্রেমে। ওর চোখ গুলোর অশ্রুবিন্দুর প্রেমে, ওর ভালোবাসার প্রেমে পড়লাম আমি। আস্তে করে বললাম-
.
-জ্বী আমার মেয়ের আম্মু। আচ্ছা, তোমায় একটা কবিতা শোনাবো?
.
-হু

আমি সুনীলের মত বললাম-
"ধরো খুব অসুস্থ তুমি,
জ্বরে কপাল পুড়ে যায়,
মুখে নেই রুচি,
নেই কথা বলার অনুভুতি,
এমন সময় মাথায় পানি দিতে দিতে
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে যদি বলি-ভালবাস?
তুমি কি চুপ করে থাকবে?
নাকি তোমার গরম শ্বাস,
আমার শ্বাসে বইয়ে দিয়ে বলবে
ভালবাসি, ভালবাসি..."
.
.
আমি কবিতা শেষ করে তাকালাম অবন্তীর চোখের দিকে। দেখলাম বিন্দু বিন্দু মুক্ত দানা জ্বল জ্বল করছে। আমি বললাম-
.
-কিছু ভুল করলাম বাবুটা?
.
অবন্তী কিছু বলল না, শুধু আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে আমার হলুদ পাঞ্জাবী টা ভিজিয়ে দিল ওর অশ্রু দিয়ে। আমি কিছু বলার আগেই ও বলে উঠল-
.
-ভালোবাসি... ভালোবাসি...
.
আমি আলতো করে ওর সিথিতে একটা ভালোবাসা একে দিলাম। আবার প্রেমে পড়লাম, অবন্তীর ভালোবাসার প্রেমে... আমার রাজকুমারীর প্রেমে।[/align]

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...