Skip to main content

"মনের মিলন"

মেয়েটা নীরবে এসে আমার স্ট্যাসে লাইক
দিয়ে চলে যেত! এমনকি আমার কমেন্ট
গুলোতে ও লাইক দিত! নাম ছিল নীলাবতী!

একদিন ঢুঁ মারি তার প্রোফাইলে! তার প্রোফাইল
জুঁড়ে নীলের বসবাস! হুম মেয়েটার নীল রং
ছিল প্রিয়...ইনবক্সে নক করি,,

নীল রং নাকি বেদনার? নীল এত প্রিয় কেন?

আমি অনুভব করতে পারি! কিন্তু তা প্রকাশ
করতে পারি না...!!

আমার কমেন্ট ও লাইক দেন? কারন কি?

আমার অনুভব গুলো আপনি লেখার মধ্যেমে
প্রকাশ করে দেন...তাই.!!!

কাউকে ভালোবাসতেন?

বাসি,বাসব...সে আমার কল্পনাতে বসবাস করে
নীল অদ্রী!

ও আচ্ছা....!!

দুই দিন আর তার সাথে আমার কথা হয় নাই!
ঠিক আগের মতই কমেন্ট লাইক দিত! যেখানেই
কমেন্ট করি না কেন তার লাইক থাকবেই!!

ইনবক্সে আবার নক দিলাম,,
এই কাজটা খুব বিরক্তিকর! কেন করেন?

কোন কাজটা?

আচ্ছা আপনি জানেন না?

স্যারি আর করব না.......

কয়েক দিন হয়ে যায়! নোটিফিকেশন আর তার
নাম আসে না! আজব এই জন্য আমার খারাপ
লাগে কেন? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন রেখে,,

আবার ইনবক্সে,,

ভালো আছেন? আপনি আবার আগের মত
হয়ে যান.. খুব মিস করি আপনার
নোটিফিকেশন..... ....!!!

আপনে থেকে তুমি..হুঠ করে পরিচয়! কথা
বলা শুরু হলে যেন শেষ ই হত না!
মাস খানেক চ্যাটিং! একধরনের অধিকার
জন্মে যায়! নীলাবতী যা কিছুই করত আমাকে
বলে করত! আমি ও কিছু করলে তাকে না বলে
করতাম না....!!একদিন মেসেজ সিন করে আর
মেসেজ দেয় না...রাগারাগি করলে ও পাসওয়ার্ড
দেয়! আমি পুরাই অবাক হয়ে যায়...ওর ফ্রেন্ড
লিস্টে শুধুই আমি..কয়েক জন পরিচিত বাদে!
আমি ও আমার পাসওয়ার্ড ওকে দেই...

দুজন দুজনার প্রতি বিশ্বাস ছিল! তারপর তা
মজবুত করি! ওর কাছে একদিন একটা পিক
চাই! দিতে রাজি হয় নাই,, আর সাথে এমন
একটা মেসেজ দেয়,তা ছিল অদ্ভুত...!!,,

আমাকে দেখলে তুমি প্রেমে পরে যাবে! আর
আমি চাই না তোমাকে আমি ঠকাই! আমি
শ্যামবর্নের, মায়াবি চাওনি, গোলাপি ঠোঁট
টানাটানা চোখ.........!!

হয়ছে হয়ছে..নিজের ঢোল নিজেকে বাজাতে
হবে না! আমি বলছি এই রকম মেয়ে আমার
ড্রিম গার্ল তাই তা বলতেছো......!!

ফেবু থেকে লগ আউট হয়ে যাই,,কয়েক ঘন্টা
পর আইডিতে আসি! নীলাবতী আমাকে
মেসেজ দিয়ে বলে তোমার প্রোফাইলে দেখ
তোমার ড্রিম গার্ল আছে!,,
প্রাইভেসি ওনলি মি করে তার ডজন খানেক
পিক আমার প্রোফাইলে এলবার্ম করে রেখে
দেয়.....!!!

তুমি আমার ড্রিম গার্ল,,, আমি কি তোমার
নীল অদ্রী??

সে অনেক আগেই... তোমার মাঝে আমি
আমার নীল অদ্রী কে সে কবেই পেয়েছি!!
কিন্তু আমি তোমাকে ঠকাতে পারব না..!!
কারন আমি আমার মনের কথা গূলো
কখনো মুখে প্রকাশ করতে পারব না....!!

(প্রকাশ=গল্পের শেষে এখানে নীলাবতী
কি বুঝাতে চেয়েছে তা বুঝতে পারবেন)

তুমি আমার ড্রিম গার্ল,তোমাকে দেখলেই
আমি প্রেমে পরে যাব...আমি তো তোমাকে
ভালোইবাসি না, আমাকে ঠকাবে মানি?
আর তোমার এত কনফিডেন্স কেন যে আমি
তোমাকে ভালোবাসি.....?? ?

কারন তুমি আমার নীল অদ্রী...!! নীলাবতী
তার নীল অদ্রী কে চিনতে ভুল করেনি.....!!!

তোমার মোবাইল নাম্বার দাও! মোবাইলে
কথা বলব! আর হ্যা আমি তোমাকে
ভালোবাসি......! !

মেসেজ সিন...কিন্তু কোন রিপ্লাই নাই.....!!

রাতে রিকশায় করে বাসায় ফিরতেছিলাম..
ফেবুতে নীলাবতী কে পেয়ে কথা বলতেছি,,

তুমি তখন মোবাইল নাম্বার না দিয়ে চলে
গেলে কেন? তোমার নীল অদ্রী কে সব কিছু
তে বিশ্বাস করতে পার..শুধু তোমার কাছে
মোবাইল নাম্বার চাইলেই কেন এভইড কর?

তোমাকে কতবার বলব যে আমি কথা
প্রকাশ,মানে কথা বলতে পারি না..কিন্তু
বিশ্বাস কর তুমি আমার নীল অদ্রী হয়ত
আমি তোমার নীলাবতী না তুমি যখন
জেনে ও আমার সাথে কথা বলতে যে আমি
কথা বলতে পারি না,

তখন মনে হত তুমি হয়ত আমার নীল অদ্রী
যে আমার মনের কথা গুলো বুঝে..বুঝবে..!!
আমি বাকপ্রতীবন্ধী.. ...!!

মানে....? আমার বিশ্বাস হয় না...প্লিজ
এমন করে বল না..থাক আমার মোবাইল নাম্বার
লাগব না..তাও মিথ্যা বল না........!!

নীলাবতীর নাম টা নীল থেকে কালো হয়ে যায়,
মোবাইল টা হাত থেকে রিকশায় বসে ঢিলা
দিতে গেলেই পিছন থেকে একটা বাস এসে
আমার রিকশা কে ধাক্কা দেয়.......!!

প্রায়বিশ দিন পর আমার জ্ঞান ফিরে! দেখি
পাশে মা বসে বসে কাঁদতেছে! আমার জ্ঞান
ফিরার পর মায়ের চোখে মুখে হাসি। মায়ের
সেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসি!!

বাসায় মা কান ধরে,,
কিরে তরে হাসপাতালে একটা মেয়ে দেখতে
আসত! দেখতে তর ড্রিম গার্ল এর মত! আমাকে
এখনো বলস নাই.....(আমাকে ফেবুতে না পেয়ে
আমার নাম্বারে ওর মাকে দিয়ে ফোন করলে
জানতে পারে আমার এক্সিডেন্ট কথা) কিন্তু
কি আজব মেয়েটা আমার সাথে একদিন ও
কথা বলে নাই......!!এই নে তার দেওয়া চিঠি..!!

নীলাবতী দেওয়া চিঠি গুলো পড়ছি আর ফেবুতে
লগ ইন হয়ে দেখি ১হাজার উপরে তার দেওয়া
মেসেজ...!আসলে তার আইডি টা ফটোভেরি...
পড়েছিল......!!

যাহোক,
আবার তার সাথে কথা বলা শুরু! আমাকে সে
প্রচন্ড পরিমান ভালোবাসে....!!! আমি ও যে তাকে অনেক বেশি ভালোবেসে
ফেলেছি! যে আমার প্রতিটা মুহূর্ত বুঝে যার
প্রতিটা মূহুর্ত আমি বুঝি! তাকে না ভালোবেসে
উপায় নেই.....!!

আচ্ছা তোমার নীল অদ্রী যদি বাকপ্রতীবন্ধী
হত? তুমি কি তার মনের কথা গুলো বুঝতে
না???

আমার জন্মই আমার নীল অদ্রীর জন্য..!!
তার মনের কথা গুলো বুঝার জন্য...,,
কিন্তু আমি তার করুনা না চাই ভালোবাসা!

আমি আমার নীলাবতী কে ভালোবাসি...
আমি চাই না সে এটা কে করুনা মনে করে.!!

............... ..............

অনেক কষ্ট হয়েছে নীলাবতী কে জীবনসজ্ঞী
হিসাবে পেতে! তবে আমার মা যদি রাজি না
হত তাহলে হয়ত নীলাবতীর মনের সাথে
নীল অদ্রীর মনের মিলন হত না.......!!

--------------- ----

চার দেয়াল নীল রংয়ের, কৃত্রিম নীল আলো
নীল বেডে...নীল শাড়ি পড়ে নীলাবতী বাসর
ঘরে বসে আছে নীল অদ্রীর জন্য!! ঠিক সময়
মতই চলে আসবে নীল অদ্রী,নীলাবতীর মনের
টানে.......!!

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...