Skip to main content

... দু:খ বিলাস...

দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমে আসে।
চারদিকে মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে।
জয় রাস্তা দিয়ে হাটছে একা একা।
পৃথিবীর সব কিছু চলছে তাদের
নিজের গতিতে।
ব্যস্ততাকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলা।শুধু
জয় এর জীবনে কোন
ব্যস্ততা নেই,নেই কোন আনন্দের
অনুভুতি।শুধুই স্তব্ধতা।
কষ্টের নির্মম কষাঘাতে আজ জয়
নি:শেষ।
পার্কের বেঞ্চে এক
জোড়া প্রেমিক যুগল বসে আছে।কত
ভালবাসা ওদের মধ্যে।
ছেলেটা মেয়েটার
কোলে মাথা রেখে হাসছে আর
মেয়েটি ছেলেটির মাথায় হাত
বুলিয়ে যাচ্ছে।
জয় পার্কের একেবারে শেষ
প্রান্তে একটা গাছের
নিচে বসে আছে।
পুরান সেই ভালবাসা আজ
মনটাকে বিষন্ন করে দিচ্ছে।কেন
এসেছিল আমার জীবনে?আর কেনই
বা চলে গেল না বলে....
জয় ফিরে যায় তার অতিতে।আজ খুব
মনে পরছে সেই দিন গুলির কথা।
একটা সময় জয় এর জীবনে ছিল শুধুই সুখ
আর সুখ, কষ্ট কি জিনিষ কখনও
বুঝেনি জয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম
পরিহাস এ পরে পরবর্তী জয়
পেয়েছে শুধুই কষ্ট।
বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে জয়
অতি আদরে কেটেছে ছেলে
বেলা। শৈশব পেরিয়ে কৈশোর এ
আসে সে, স্কুল জীবন আর কলেজ জীবন
শেষ হয় আসে ভার্সিটি জীবন।
সে ভর্তি হয় জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয় এ নিজের পছন্দের
বিষয় CSE তে।
এই পর্যন্ত জয় এর জীবনে সবই ঠিক ছিল,
আসল ঝড় টা আসে ঠিক এর পর।
ভার্সিটি লাইফ ভালই চলছিল জয় এর
বন্ধুদের সাথে আড্ডা,
ঘুরতে যাওয়া,মাঝে মাঝে গিটার
নিয়ে বন্ধুরা মিলে বেসুরা সুরে
গান গাওয়া। সবই ছিল জয় এর।
সে দেখতে দেখতে ২ বর্ষে উঠে ।
হটাত করে জয়
জরিয়ে পরে রাজনীতিতে ওর
ইচ্ছা যাগে বাংলাদেশ এর জন্য
কিছু করবে।
জরিয়ে পরে একটি রাজনৈতিক
সংগঠনের সাথে।
আস্তে আস্তে ১বছরের
মধ্যে সংগঠনটির ভার্সিটি শাখার
সভাপতিতে পরিণত হয় জয়।
ভার্সিটির সব ছেলেমেয়ে এক
নামে চেনে ওকে, ভার্সিটির সব
সার ও ওকে ভাল করে চেনে।
এভাবেই চলছিল ওর দিনগুলো,
একটা সময় ভার্সিটি এর ভর্তি শুরু হয়।
জয় এর এক পরিচিত ভাই একদিন
জয়কে বলে,
-জয় একটা গরিব মেয়ে আছে আমার
পরিচিত সে কোন
ভার্সিটিতে চান্স পায় নি কিন্তু
তোর ভার্সিটিতে ওয়েটিং এ
আছে একটু দেখিস তো।
- আচ্ছা পরিচয় করে দিয়েন।
-আচ্ছা কাল পরিচয় করে দেব।
জয় মেয়েদের
সাথে কথা বলে না কিন্তু ভাইয়ের
কথা রাখতে গিয়ে মেয়েটির
সাথে কথা বলে।
সে জানতে পারে মেয়েটির নাম
তানিয়া।
জয় মেয়েটির জন্য কাজ করা শুরু
করে এবং সারদের অনেক
বলে ভর্তি করিয়ে দেয়।
তানিয়া জয়ের উপর দূর্বল হয়ে পরে,
সে জয়ের
সাথে নানা ভাবে কথা বলতে
চেষ্টা করে,কিন্তু জয়
তানিয়াকে এরিয়ে চলে কারণ
সে মেয়েদের
সাথে মিশতে পারে না।
এদিকে ভার্সিটির নবীনবরণ
অনুষ্ঠানের দিন ঠিক হয়, সবার মত
তানিয়াও সেজে গুজে আসে।
সে মনে মনে জয়কে খুজতে থাকে
উদ্দেশ্য একটাই
জয়কে আজকে সে মনের
কথা খুলে বলবে।
সে জয়কে দেখতে পায়
ছুটে চলে যায় জয়ের কাছে।
-জয়, একটু শুনবে।
- বিরোক্তির
সুরে বলে কি বলবা তারাতারি বল
আমার কাজ আছে।
-আসনা একটু বসি!
-দেখ, তোমার সাথে ফাউল টাইম নষ্ট
করার ইচ্ছা আমার নাই। কি বলবা বল
না হলে আমি গেলাম।
-না মানে ইয়ে,
আমি না তোমাকে ভালবেসে
ফেলেছি।
কথাটা শোনার পর যা হওয়ার তাই হল
জয় তানিয়াকে সবার
সামনে অপমান করে।
তানিয়ে সরাসরি চলে যায় বাড়ি।
ঠিক করে আর
ভার্সিটিতে আসবে না।
জয় রাতের
বেলা বুঝতে পারে না সে কাজটা
ভাল করে নি সবার
সামনে এভাবে মেয়েটাকে অপমান
করা ঠিক হয় নি। সে ফোন
করে তানিয়াকে কিন্তু তানিয়ার
ফোন অফ। পরের দিন
ভার্সিটিতে গিয়ে তানিয়াকে
খোঁজে জয় নাহ ভার্সিটিতেও
আসে না তানিয়া। শেষে ওই
ভাইয়ের কাছ থেকে বাসার
ঠিকানা নিয়ে তানিয়াদের
বাসায় যায় জয়, তানিয়া জয়ের
সামনে আসে না ওর মা বলে যে ও
কাল সারারাত কিছু খায়নি শুধু
কেঁদেছে। জয় তানিয়া ঘরে যায়
এবং তানিয়ার
কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে সেও
তানিয়াকে ভালবাসে।
এরপর থেকে জয়ের জীবনের
একটা অংশ হয়ে যায় তানিয়া।
তাদের দিনগুলো ভালই কাটছিল,
কিন্তু একটা কালবৈশাখী ঝড় জয় ও
তানিয়া জীবনটাকে নষ্ট করে দেয়।
সাংগঠনিক কোন্দল শুরু হয় জয়ের
পার্টির সাথে অন্য পার্টির
বিরুদ্ধতা শুরু হয়, জয়ের বিপরীত পক্ষ
জানতে পারে জয়ের দুর্বল দিক হল
তানিয়া।
তারা তানিয়াকে অপহরণ
করে এবং ওর উপর ৩দিন ধরে নির্যাতন
করে। তারপর তানিয়ার বাড়ির
সামনে তানিয়াকে ফেলে এসে
বলে জয় এই কাজ করেছে এবং জয়ের
নামে কেস করে। পুলিশ
জয়কে খুঁজে বের
করে ধরে নিয়ে যায় জয়ের কেস
কোর্ট এ ওঠে বাবা বড়লোক হওয়ায়
ভাল উকিল নেন এবং জয়ের
শাস্তি কম হয়,জয় যায় জেলে।
এদিকে তানিয়া পাগলের মত
হয়ে যায় সারাদিন
জয়কে খোঁজে ওর
মা ওকে বলে যে ছেলে তোর এতবড়
ক্ষতি করল সেই ছেলেকেই তুই
ভুলতে পারলি না? তানিয়া চুপ
করে থাকে কারণ সে জানে জয়ের
কোন দোস নেই। সে শুধু জয়ের
অপেক্ষায় থাকে কখন
সে এসে তানিয়াকে আপন
করে নেবে।
জয়ের শাস্তি শেষ হয়,
সে সোজা তানিয়াদের বাসায়
যায় এবং সব কিছু ওর
মাকে খুলে বলে,
এবং তানিয়াকে বিয়ে করতে চায়।
জয় এ কথা তার বাবাকেও বলে জয়ের
বাবা এবং তানিয়ার মায়ের
মতে তারা বিয়ে করে। জয় শেষ
বর্ষের পরীক্ষা দেয়
এবং একটা চাকুরী পেয়ে ঢাকার
বাহিরে তানিয়াকে নিয়ে চলে
যায়।
তাদের দিনগুলো খুব ভালই কাটছিল।
কিন্তু বিধাতা মনে হয় তাদের
কপালে সুখ রাখেনি। তাদের সুখ
স্থায়ী হয় না। হটাত একদিন
তানিয়ার এপান্ডিসাইড এর প্রচন্ড
ব্যাথা ওঠে কিন্তু বাসায় কেউ
না থাকায় তানিয়াকে কেউ
হাসপাতালে নিতে পারে না।
ব্যাথা সহ্য
করতে না পারে মারা যায়
তানিয়া।
একের পর এক আঘাত সহ্য
করতে পারে না জয়,
অনেকটা পাগলের মত হয়ে যায় সে।
কার সাথে কথা বলে না সব সময়
চুপচাপ
চাকুরিটা ছেড়ে দিয়ে ঢাকা চলে
যায় সে সারাদিন রাস্তায়
রাস্তায় ঘুড়ে সে।
আগেকথাগুলো ভাবতে ভাবতে
কাঁদছিল জয়, হটাত একটা ছোট
মেয়ের কথায় ঘোর ভাংগে জয়ের।
- আংকেল, আংকেল আমারে ওই
ফুলটা পেরে দিবেন প্লিজ?
-আচ্ছা মা দাড়াও দিচ্ছি।
বলে ফুলটা পেরে দেয় সে।
মেয়েটা ওর কপালে একটা চুমু
দিয়ে বলে আংকেল তুমি অনেক
ভাল বলে দোড় দেয় বাচ্চাটা।
জয় ভাবে আজ তানিয়া থাকলে হয়ত
তাদেরও একটা এমন বাচ্চা থাকতে।
কথাটা ভাবতে ভাবতে নি:শব্দে
চোখের
পানি ফেলতে ফেলতে হেটে যায়
জয়।

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...