Skip to main content

ভালোবাসার ট্র্যাজেডি

হাসান আর তানজিল....বন্ধুত্ব তাদের
ছোটবেলা থেকেই।যখন বয়স তাদের ৩ বছর।
যেটাকে বন্ধুত্ব বললেও ভুল হবে।
বয়সে তানজিল ২ বছরের বড় হলেও
পড়াশুনায় ছিল ১ ক্লাসের ছোট বড়।দুজনের
বন্ধুত্ব আর ভালবাসায় চলতে থাকে দিন।
হাসান মধ্যবিত্ত পরিবারের
ছেলে হলেও,তানজিলের বাবা ছিল
বিত্তবান।
হাসান যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ে...তখন
একটা মেয়েকে তার খুব ভাল লেগে যায়।
মেয়েটার নাম সুমি। মেয়েটা পড়ত তার
সাথেই,একই স্কুলে।
সে বলতে পারেনা তার ভালবাসার
কথা...কেননা সে সময়টা ছিলনা প্রেম/
ভালবাসার উপযুক্ত সময়।
কিছুদিন পরের কথা....
তানজিলের কাছে হাসান তার
ভালো লাগার কথাগুলো শেয়ার করে।
যা ছিল শুধুই ভালো লাগা।
তানজিলও হাসানকে জানায় তারও
নাকি ভালো লাগে সুমিকে!
হাসান কষ্ট পায়না...
বরং সে হাসি মুখে কথা দেয়,সর্বপ্রকার
সাহায্য করার।যেহেতু সে ছিল সুমির
Classmate.
৮ম শ্রেণীর মাঝামাঝি সময়ে সুমির
সাথে হয় হাসানের বন্ধুত্ব।কিছুদিনের
মধ্যেই বন্ধুত্ব অনেক জোরালো হয়ে ওঠে।
হাসান ও খুব অল্প সময়েই সুমির Best friend
হয়ে যায়। সে সুবাদে তানজিলের
সাথে পরিচয় হয় সুমির। সুমির
প্রতি তানজিলের ভালো লাগার
কথা হাসান সুমিকে জানাতে থাকে। ৮ম
শ্রেণীর শেষের দিকে সুমির সাথে শুরু হয়
তানজিলের প্রেমের সম্পর্ক।তানজিল তখন
৯ম শ্রেণীর ছাত্র।প্রতিদিন কথা আর
খুনসুটির মাধ্যমে চলতে থাকে তাদের
সুখের দিনগুলো....বছর দেড়েক পর তানজিল
GPA 5 পেয়ে S.S.C পরীখ্খায় উত্তীর্ণ হয়।
তার এক বছর পর সুমি এবং হাসানও S.S.C
পরীখ্খা দেয়... তার পরই
এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু! তানজিল আর
সুমির পরিবার জেনে যায় তাদের
সম্পর্কের কথা।
S.S.C র ঠিক ৮ দিন পর সুমির
বাবা তাকে বিয়ে দেয় এক মধ্যবিত্ত
পরিবারে।আদনান নামের এক ছেলের
সাথে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তানজিল উপযুক্ত
না হওয়ায় সুমির কিছুই করার ছিল না।
পরাজয় মেনে নিতে হয় নিজের স্বচ্ছ
প্রেমের কাছে।
হাসান দেখতে থাকে তার প্রিয় দুই বন্ধুর
আহত রিদয়ের আর্তনাদ। আর তানজিলের
চোখ থেকে ঝরা ঝরণার মত অশ্রুধারা।
বছরখানেক পর মেধাবী ছাত্র তানজিল
H.S.C শেষ করল 2.4 পয়েন্ট পেয়ে।তার
কিছুদিন পরেই সুমির কোল
জুড়ে এলো ফুটফুটে একটা ছেলে।
ছেলে হবার পর থেকেই সুমির
শরীরটা খারাপ যাচ্ছিল।বন্ধুত্ বের
খাতিরে হাসানের সাথে যোগাযোগ
থেকে যায় সুমির। ছেলে হবার প্রায় ২
মাস পর ১ মাস হাসপাতালে জীবনের
সাথে যুদ্ধ করে চিরকালের মত
পরপারে পাড়ি জমায় সুমি। রেখে যায় ২
মাসে ছেলে আতফান সামিরকে।
আর বেচারা তানজিল সুমির অন্যের
হয়ে যাওয়াটা অনেক
কষ্টে মেনে নিতে পারলেও
মেনে নিতে পারেনি তার
দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়াকে।
তাইতো মানসিক যন্ত্রণা সহ্য
করতে না পেরে এখন সে মানসিক
প্রতিবন্ধী।চিরচেনা সুমি নামটাই
যে তার একমাত্র সম্বল!
আর হাসান!
হ্যা...আর আমিই হলাম সেই
হতভাগা হাসান।যে আমি কিছুই
করতে পারিনি স্কুল জীবনের সবচেয়ে ভাল
বন্ধুটির জন্য...পারিনি ছোট
থেকে যে তানজিলের সাথে বড়
হয়েছি,তার জন্য কিছু করতে! শুধু
পেরেছি নীরবে কাদতে...আর দেখেছি ২
টা কোমল রিদয়ের মৃত্যু। ছোট
থেকে আমরা বড় হয়েছি সিরাজগন্জ
জেলা শহরে। এখন এখানকার মানুষজন
তানজিরকে চেনে পাগলা তানজির নামে।
যে পাগল এখন রাস্তায় রাস্তায়
ঘুরে বেড়ায় আর সুমি সুমি করে চিত্কার
করে।সুমি...তোর একটা কথাই বার বার
আমার কানে বাজে। তানজির তোর
সাথে রাগ করলে যখন তুই
আমাকে বলতি..."আমি যখন থাকবনা,তখন
বুঝবি কি হারায়ছিস তোরা"
বার বার চিত্কার
করে তোকে বলতে ইচ্ছা করে... সুমি,তুই আর
একবার আয়।তানজিরের জন্য আয়,তোর
ছেলে আতফানের জন্য আয়।
জানি কোনদিন আসবিনা... কোনদিনই
না...
আমিও এখন এক সম্পর্কে জড়িত...অসম্ভব
ভালবাসি তাকে।কখনোই
হারাতে চাইনা তাকে...কখনোই না।

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...