Skip to main content

ছোট্টবেলার বন্ধুত্ব

‘ছোট্টবেলার বন্ধুত্ব বেশি দৃঢ় আর
দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। তাদের
মধ্যে মানসিক সমঝোতা খুব
ভালোভাবে হয়ে থাকে। কেননা যেহেতু
তারা অনেক ছোটবেলা থেকেই একে অন্যের
সাথে মেলামেশা করে তাই তাদের
ভেতরের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো শুধু তারাই
ভালো বুঝতে পারেন।’

বন্ধুত্ব শব্দটির অর্থই হল একজনের মনের
সাথে আরেকজনের মনের মিল। আমাদের
জীবনে বহু ধরনের বন্ধুই এসে থাকে কিন্তু সবাই
ঠিক টিকে থাকতে পারেন না। সময়ের
সাথে সাথে এই ধরনের অনেক বন্ধুই নিরুদ্দেশ
হয়ে যায়। শুধু টিকে ছোট্টবেলার সেই
বন্ধুগুলো। আর মনের ভেতরের ভাঙা-গড়ার
ভাষাগুলো একমাত্র এই বন্ধুরাই বুঝতে পারেন।
আসুন জেনে নিই এমন কয়েকটি বিষয়
সম্পর্কে যেগুলো শুধুমাত্র একজন ছোট্টবেলার
বন্ধুই পারে আমাদের শেখাতে।
১. বিশ্বাস করতে শেখায় :
একজন ছোট্টবেলার বন্ধুই আমাদের বিশ্বাস
করতে শেখায়। জীবনের বিভিন্ন মোড়ে বহু
বন্ধুই আমাদের জীবনে আসে কিন্তু তাদের
বিশ্বাস করা যায় না। তারা ক্ষতির কারণ
হয়ে দাঁড়ায় মাঝে মাঝেই। কিন্তু
ছোট্টবেলার বন্ধু আমাদের সেই বিশ্বাসের
জায়গাটি দৃঢ় করে। বন্ধুটি অনেক
ছোটেবেলা থেকেই আপনাকে চেনেন
এবং জানেন বলে আপনার সুখেই সে সর্বস্ব
বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকেন।
২. শক্তি এবং দুর্বলতার উৎস
সম্পর্কে জানেন :
একজন প্রকৃত ছোট্টবেলার বন্ধুই আপনার
শক্তি এবং দুর্বলতার উৎস সম্পর্কে জানেন। আর
তাই আপনার প্রতি তার সহানুভূতিটিও
থাকে অনেক বেশি। ধরুন সে জানে যে আপনার
কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে দুর্বলতা আছে।
ছোট্টবেলার বন্ধুটি সেই দুর্বলতার
জায়গাটিকে সবল করার চেষ্টায় সবসময়ই মগ্ন
থাকবেন এবং আপনার চলার পথটিকে সহজ
করতে সহায়তা করেন।
৩. আত্মসম্মান রক্ষার্থে যথেষ্ট
সহায়তা করেন :
ছোট্টবেলার বন্ধুটি বিশ্বাস করেন যে বন্ধুর
আত্মসম্মানে আঘাত হানা মানে তার নিজেরই
আত্মসম্মানে আঘাত। তাই শুধু একজন ছোট্টবেলার
বন্ধুই বন্ধুটির আত্মসম্মান রক্ষার্থে যথোপযুক্ত
সহায়তা করে থাকেন যা অন্য কোনো বন্ধু
করেন না।
৪. আবেগ বুঝতে পারেন :
একজন ছোট্টবেলার বন্ধুই বুঝতে পারেন আপনার
আবেগের ওঠানামা।
কেননা সে আপনাকে অনেক
ছোটবেলা থেকেই চেনেন। তাই
তিনি জানেন কিসে আপনি বেশি কষ্ট পান আর
কিসে খুশি হন। আপনার মনের ভেতরের
আবেগকে তিনি বুঝতে পারেন যা অন্যান্য
যেকোনো বন্ধু এতটা সহজে বুঝতে পারেন না।
৫. সীমাহীন
খুশি এনে দিতে পারেন :
একমাত্র ছোট্টবেলার বন্ধুই
বিনা স্বার্থে আপনার জন্য সীমাহীন
খুশি এনে দিতে পারেন। কারণ
তিনি আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসেন।
আপনার প্রতি তার এক ধরনের মায়া কাজ করে।
যার ফলে আপনার দুঃখে তিনি কাঁদেন আর
আপনার সুখে তিনি হাসেন। তিনি আপনার জন্য
যেকোনো মূল্যে সুখের সন্ধান
করে দিতে প্রস্তুত থাকেন।
৬. তিনি আপনার পরিবারের
কাছেও প্রিয় একজন :
যেহেতু ছোট্টবেলা থেকেই আপনার
সাথে তার বন্ধুত্ব। তাই তিনি আপনার
পরিবারের কাছেও অনেক প্রিয়
মানুষে পরিণত হন। তিনি আপনার পরিবারকেও
একইভাবে ভালোবাসেন
যেমনটা আপনি করেন।
৭. সৎ পরামর্শ দেন :
ছোটবেলার বন্ধু সৎ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তিনি আপনাকে ছোটবেলা থেকেই
ভালোভাবে চেনেন বলে তিনি জানেন
কোনদিকে আপনার বিপদ হতে পারে আর
কোনদিকে মঙ্গল। তাই সবকিছু
বিবেচনা করে তিনি আপনাকে সৎ পরামর্শ
দিতে পারেন।
৮. সম্পূর্ণ আলাদা একজন :
অন্যান্য বন্ধুদের তুলনায় ছোট্টবেলার বন্ধু
সম্পূর্ণ আলাদা একজন। তিনি একজন মায়ের মত
ভালোবাসেন, বাবার মত সৎ পরামর্শ দেন, বড়
ভাইয়ের মত সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ
দেখিয়ে দেন, শুভাকাঙ্খীর মত মঙ্গল
কামনা করেন এবং ভালো বন্ধুর মত সব ধরনের
বিপদ থেকে মুক্ত করেন। তিনি সম্পূর্ণভাবেই
আলাদা একজন।

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...