Skip to main content

মেয়ে

মেয়েমাত্রই মেয়েদের শরীর- কথাটার প্রমাণ ঘুরেফিরে যতবার দেখি, ততবারই ভীষণ রাগ হয়!! সবচেয়ে বেশি রাগ হয় মেয়েদের উপরই!!
এক ক্লাসমেট ডায়েটিং করছে ফিগার ঠিক রেখে বয়ফ্রেন্ডকে খুশি রাখার জন্য...ঐদিকে তার আন্ডারওয়েট, তারপরেও তার পেট টানটান থাকতে হবে কারণ বয়ফ্রেন্ড ওটাই চায়!!
পার্লারে দুইবেলা দৌড়ে আরো তিনবেলা সময় নষ্ট করে একেকদিন চুলে একেক কালার করে একজন, চুল পাম করে, স্ট্রেইট করে, সব কনসার্ন বাইরের লুকে, অথচ বলতে গেলে খারাপ শোনায়, তার ব্যবহার আর মুখের ভাষাটার দিকে যদি সে একটুখানি নজর দিতো, আফসোস!!
এক ছোট বোনকে, এক কলিগকে পাত্র রিজেক্ট করেছে মেয়ে লম্বায় ৫'/৫'১" বলে অথচ ছেলের উচ্চতা ৫'৩"!! মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সাবজেক্টে পড়ে কী ভালো রেজাল্ট করে কিচ্ছু যায় আসে না...মাপকাঠি হয় কিনা উচ্চতায়!!
প্রাচীন গ্রীসের যতগুলো দেবীমূর্তি দেখি, কিংবা আরো অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতায় তাদের আঁকিয়েদের আঁকা নারীমূর্তির সবগুলোরই একটা করে ভারী তলপেট আছে...কারণ তাদেরকে কেউ তখনো বলে দেয় নি, তলপেট চিমসে থাকাটাই সৌন্দর্যের, জন্মের পর থেকে তারা দেখে এসেছে নারীরা এমনই, তাদের শরীর মেদবহুল এবং সেটা সৃষ্টির প্রয়োজনেই!!
এখন মেয়েদের শরীর মার্কেটিং'এর পণ্য...বাজারের সব প্রোডাক্টে, হোক সেটা মেয়েদের কসমেটিক্স সামগ্রী কী খাবার, বাচ্চার ডায়াপার কী ছেলেদের আন্ডারওয়্যার, সবখানেই তারা বলে দিচ্ছে, মেয়েদের বুক-পেট-কোমর-নিতম্বের মাপ কত হতে হবে, কত হলে সেটা ছেলেদের উত্তেজনা জাগাতে সক্ষম হবে!! আর এইসব দেখতে দেখতে মেয়েরা সৌন্দর্যের একটা ফ্রেমে নিজেদেকে বেঁধে ফেলতে চেষ্টা করে কারণ তার পুরুষের কাছে তাকে আবেদনময়ী হতে হবে!! আর এইজন্যেই বোধহয় সম্পর্কগুলো আজকাল এতোটা সস্তা!! বুক-পেটের মাপা সৌন্দর্য আজকাল হাতের কাছেই পাওয়া যায় যে!!
অথচ কয়টা ছেলে নিজের ভুড়ি বিসর্জন দেয় তার সঙ্গীর কথা ভেবে? টাকমাথার কয়টা ছেলে হেয়ার রিপ্লেসমেন্ট করে? মেয়েদের জন্যে তো ফেয়ারনেস প্রোডাক্ট, লিপ অগমেন্টেশান, সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টেশান, লাইপোলাইসিস কোন কিছুর অভাব নেই...বাংলাদেশেও মার্কেট বেশ রমরমা!!
চোখেমুখে হাজারটা ভাঁজ নিয়ে শাহরুখ নিজের মেয়ের বয়সী নায়িকাদের নায়ক বনে যান অথচ কোন মেয়ে নায়িকা আছে যে মুখের ভাঁজ নিয়ে ছেলের বয়সী নায়কদের নায়িকা হয়ে অভিনয় করেই যাচ্ছেন?
খুব সামান্য আরেকটা উদাহরণ দেই...নাটক-সিনেমার নায়করা ভ্রু প্লাক করে, সেটা এখন মোটামুটি সবাই জানে, কিন্তু কতগুলো সাধারণ ছেলে সুন্দর হতে হবে বলে ভ্রু প্লাক করছে? অন্যদিকে একটা গ্রামের মেয়েও কিন্তু আর কিছু না করুক, ভ্রুটা তুলে একটু ঠিকঠাক সে করবেই আর মুখে একটু হলেও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখবেই!!
প্রকৃতি মেয়েদেরকে যে প্রয়োজনের খাতিরে যেভাবে জেনেটিক ডিজাইনিং করে পাঠিয়েছে, সেটাকে গ্রহণ করার মানসিকতা কয়টা মেয়ের মাঝে আছে জানতে ইচ্ছে হয় খুব...স্বীকার করছি, আমিও একসময় খুব চাইতাম তথাকথিত সুন্দর হতে, কারণ আমাকে চারপাশ থেকে বলা হতো, আমি কালো, আমি বেঁটে, আমি মোটা...কিন্তু এই কথাগুলো কারা আমার মাথায় ঢুকিয়েছিলো ভাবলে এখন অবাকই লাগে...তাদের প্রত্যকেই ছিলো ছেলে, আমার পরিবারের আত্মীয় কিংবা আমার বন্ধু!!
আমার বিয়ের সময় অনেকেই চেয়েছিলো যেন হিজাব না পরি, আমাকে আমার কিছু বান্ধবী খুব বকাঝকা করেছিলো কেন আমি ভ্রু প্লাক করি নি, ফেয়ার পলিশ করাই নি...আমি খুশি, আমাকে এসবের কিছুই করতে হয় নি...মানসিকভাবে আমি আমাকে গ্রহণ করতে পেরেছি!!!
তবুও কষ্ট হয়, একদিনের জন্যে হলেও নিজের শিক্ষাগত, সামাজিক সত্ত্বা পালটে ফেলতে মেয়েদের কী আপ্রাণ চেষ্টাটাই না করতে হয়!! প্রার্থনা করি, নিজেদের নিয়ে মাথা উঁচু করার ক্ষমতাটুকু যেন আমার স্বগোত্রীয়দের থাকে...শুধু অন্যের মনোরঞ্জনের জন্যে যেন ফিতে দিয়ে নিজের বুক-পেট মাপামাপি করতে না হয়...মেয়েদের মনের মাঝে হীনমন্যতাবোধের জন্ম দেয়া পুরুষতন্ত্রের মুখে চপেটাঘাত করতে যেন মেয়েরাই এগিয়ে আসে নিজেদের বোধ-বুদ্ধি নিয়ে!!

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...