Skip to main content

প্রপোজ

মিমি আর তুলি খুব ভালো বান্ধবী।
একই কলেজে যায়।
একই প্রাইভেটে পড়ে।
কিছুদিন হলো দুইটা ছেলে তাদের
ডিস্টার্ব
করে।
একটা এলাকার ছেলে।
আরেকটা হয়তো নতুন
এসেছে এলাকায়।
এলাকার ছেলেটা একটু বাজে।
মিমির
বান্ধবী তুলিকে দেখলে চোখ
দ্বারা সংকেত দেয়।(চোখ
মারে)।
কিন্তুু তুলি একদমই পছন্দ
করে না ছেলেটিকে।
কিন্তুু নতুন ছেলেটাকে ভদ্র ভদ্র
মনে হয়।
একেবারেই সাদামাটা।
প্রতিদিন এভাবে চলতে থাকে।
ছেলেদুটো মিমি এবং তুলিকে প্রতিদিনই
কলেজ,প্রাইভেট
থেকে আসা যাওয়ার সময়
পিছনে পিছনে যায়
আসে।
এক পর্যায়ে মিমি,তুলি দুজই বিরক্ত
হয়ে যায়।
ওদেরকে বলে দিতে হবে যেন আর
পিছনে পিছনে না আসে।
মিমি ভাবে এলাকার বখাটেটার
সাথে কথা বলা যাবে না।
যা বলার নতুন ভদ্র
ছেলেটাকে একা পেলে বলতে হবে।
হঠাৎ একদিন নতুন
ছেলেটাকে একা পাওয়া যায়।
মিমি ডাক দেয়,
এই যে শুনছেন?
একটু এদিকে আসবেন??
ছেলেটা আবুলের মত
চারদিকে তাকাতে থাকে।
—এই আপনাকেই বলছি।
—জ্বি বলুন?
—এলাকায় কি নতুন?
—জ্বি মানে ……হ্যা।
—এলাকায় নতুন এসেই গুন্ডাদের
সাথে আড্ডা শুরু করলেন?
দেখেতো ভদ্র বলেই মনে হয়।
—না……… মানে ………ইয়ে।
—সমস্যাটা কি?
আমাদের পাহারা দেন কেন?
দেখেতো মনে হয় পড়া-
লেখা করেন।
কিন্তুু গুন্ডাদের চামচামি করেন
কেন?
ছেলেটা চুপ।
—কি ব্যাপার চুপ কেন?
লজ্জা করছে???
যখন আমাদের পিছনে পিছনে আসেন,
তখন
লজ্জা করে না???
—না…মানে…………
—না মানে কি?
—ঐ ছেলেটা আপনার ঐ
বান্ধুবীকে………
—পছন্দ করে এইতো?
আমার
বান্ধবী ওকে দুচোখে দেখতে পারে না।
আর শুনুন!এলাকায় নতুন
এসেছেন,ভালো হয়ে যান।
ভালো ছেলেদের
সাথে মিশুন।ভালো মানুষ
হতে পারবেন।এর
পরে যেন আপনাকে আর
না দেখি।আর আপনার দুই দিনের ঐ
বন্ধুটাকে বলবেন চোখের
ডাক্তার দেখাতে।
এসব কথা বলে মিমি আর
তুলি চলে এলো।
এদিকে ছেলেটি বিদ্যুৎের খুঁটির
মত
দাঁড়িয়ে রইল।
—মিমি তুই
যা বললি না,ছেলেটা পুরো স্টাটু
হয়ে গেছে।
—বাদ দে তো তুলি।
মাঝে মাঝে কিছু
বলা লাগে।
—তোর কি মনে হয়?
ছেলেটা কাল আবার আসবে?
—মনে হয় আসবে না।
পরদিন ছেলোটাকে আর দেখা যায়
নি।
কিন্তুু এলাকার গুন্ডা টাইপোর
ছেলেটা প্রতিদিন টহল দিতো।
—দেখলি মিমি ।
ছেলেটা ছেলেটা নিশ্চই
ভালো।একদিন
বলে দেওয়াতে এখন আর দেখা যায়
না।
—হুমম।দেখলাম।আস লে ভালোদের
একবার
বললেই হয়।
এক সপ্তাহ পর।
কলেজ ছুটির পর,
মিমি এবং তুলি কলেজ
থেকে বের হচ্ছে।
গেটের সামন এসে থমকে দাঁড়াল
মিমি।
—কিরে মিমি দাঁড়ালি কেন?
–দেখ কে?
—আরে সেই ছেলেটাইতো।
যাকে তুই
সেইদিন অপমান করেছিলি।
—হুম।চলে কথা বলি।
—তুই কি পাগল হলি?
—নাহ।সেদিন একটু বেশীই
বলেছিলাম।
চল কথা বলি।
এই যে ভাইয়া আপনাকে বলছি।
—জ্বি আমাকে?
—হ্যা আপনাকে।
—আমি কি করলাম?
আমি কি আবার ভূল করলাম?
—নাহ,আসলে আপনাকে সেদিন একটু
বেশীই
বলে ফেলেছিলাম।স্যরি ।
—আরে স্যরির কি হলো।
আমিইতো আপনাকে স্যরি বলা উচিৎ
ছিল।
আসলো আপনাদের ডিস্টার্ব করার
জন্যে দুঃক্ষীত।
আমি আপনাদের এলাকায় নতুন
তো তাই
এসেই ছেলেটার
সাথে পরিচয় হল।
এর পরের
ঘটনাটা তো আপনারা জানেন………………
–আপনি কি এ কলেজেই পড়েন?
—হ্যা।আপনি?
—আমিও এ কলেজেই পড়ি।
—কোন ইয়ার?
—ফাষ্ট ইয়ার।আপনি?
—আমি ফাইনাল ইয়ার।
—আচ্ছা ভাইয়া আসি।
এ ভাবে চলে যায় মিমি।
প্রায়ই তাদের দেখা হতো।
দেখা মাত্রই দুজন দুজনকে দেখে ১৮০
ডিগ্রী এঙ্গেলে হেসে দিত।
ছেলেটাকে মিমির
ভালো লেগে যায়।
কিন্তুু
মেয়েরাতো আগে কখনো প্রপোজ
করে না।
মিমি বুঝতে পারে ছেলেটাও
মিমিকে পছন্দ
করে।
মিমি ভাবে,আরে ছেলেটা কি ভীতু
না কি?
প্রপোজ পর্যন্ত করতে পারে না।
কিছু দিন পর মিমির আর
কলেজে আসে না।
এ দিকে তাসিন নামের
ছেলেটা মিমিকে খুঁজতে থাকে।
এবং জানতে পারে,মিমিরা বাড়িতে চলে গেছে।
তাসিন অনেক কাঁদে।
যদিও ছেলেদের কান্না মানায়
না।
তাসিন নিজের মনকে বলতে থাকে,
কেন
সে প্রপোজ করলো না।
এমন
একজনকে হারিয়েছি যাকে আমি ভালোবাসি।
মিমি এমন
একজনকে হারিয়েছে যে তাকে ভালোবাসে।
৫ বছর পর।
অফিস থেকে বাসায় আসার
পথে একটা ফাষ্ট-ফুডের
দোকানে ঢুকলো তাসিন।
একটা খালি টেবিলে বসে কফির
ওয়ার্ডার
করল।
পাশের টেবিলে চোখ যেতেই নজর
পড়লো একটা মেয়ের উপর।
মেয়েটা দেখতে তো সেই মিমির
মতই।
মেয়েটার সাথে একটা তিন বছরের
বাচ্চা আছে।
তাসিন উঠে দাঁড়ালো ,মেয়েটার
সামনে যেতেই
মেয়েটা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
—আপনি এখানে???
—হুমমম।চিনতে পারলেন???
আমি সেই গুন্ডার চামচা টা।
—এখনো ও সব কথা মনে রাখলেন??
—কিছু কিছু কথা সারাজীবন
মনে থেকে যায়।
—তাই নাকি? আচ্ছা।
ভাবী ভালো আছে?'
—কার ভাবী?
—আপনার Wife? ??
—আমি এখনো বিয়ে করি নি।
—তাহলে নিশ্চই হবু wife আছে?
—আছে।
তবে সে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
—কি বলেন মেয়েটা এত নিষ্ঠুর
যে আপনার
ভালোবাসা বুঝলো না।
—জানি না।একদিন
আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল আর
এল না।
আচ্ছা আপার মেয়েটির নাম কি?
দেখতে খুব
সুন্দর।
—নাহ এটা আমার বাচ্ছা না।
এটা আমার
ভাগনী।
ওকে নিয়ে ঘুরতে এলাম।
দীর্ঘশ্বাস ফেলল তাসিন।
—আপনি বিয়ে করেন নি।
—নাহ।
একজনকে ভালোবেসেছিলাম কিন্তুু
বলতে পারি নি।
আমার
ধারনা সে এখনো ফিরে আসবে।
—ভালো।আচ্ছা ঐ দিনের পর
থেকে কলেজ
আসা বন্ধ করে দিলেন কেন?
—আসলে ঐ দিন বাবার মৃত্যু হয়।তাই
আমাকে পরিবারের হাল
ধরতে হয়।
তাই বাড়িতে চলে গেলাম।
—Very sad.একটু বসুন আসছি।
এই বলে প্রায় দোড়েই কফিশপ
থেকে বেরিয়ে যায় তাসিন।
পাঁচ মিনিট পর একটি ফুলের স্টিক
নিয়ে হাজির হয় তাসিন।
এসেই হাঁটুগেড়ে বসে মিমির
দিকে ফুলের
স্টিকটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,সে দিন
বলতে চেয়েছি কিন্তুু
বলতে পারি নি।তাই
তোমাকে হারিয়েছি।
কিন্তুু এখন তোমাকে আর
হারাতে চাই না।
"""আমি তোমাকে ভালোবাসি""""
মিমি ফুলের স্টিকটা প্রায়
ছোঁ মেরে নিয়েই
বলল,বুদ্ধু। এত দেরীতে বলা লাগে।
আমি যদি হারিয়ো যেতাম??????

Comments

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...