হারু ঘুম থেকে জেগে উঠেই জীবনের
বড় একটি সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্তটি নেবার
পিছনে যেই কারণটি কার্যত ছিল তা হল হারুর
বান্ধবীর পাঠানো একটি বার্তা। গত রাতে হারু
যখন শরীর এবং মনের
ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরেছিল, তখনও হারুর
বান্ধবী শরীর এবং মনের
ক্লান্তিকে সুযোগ
না দিয়ে হারুকে নিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত
ভেবেছিলো এবং প্রায়
শেষরাতে হারুকে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায়
বলা হয় “বাঁধা যেমন কষ্টের, কাটাও তেমন
কষ্টের” অথচ হারুর নিকট এই
বার্তাটি পৌছুতে পৌছুতে তখন সকাল এবং হারু
সবে ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল। এই
বাঁধা আর কাটার চক্করে হারু পড়ে যায়
এবং জীবনে আর প্রেম না করার সিদ্ধান্ত
নেয়।
এই বার্তাটি হারুর কাছে না পৈছালে হয়তো হারু
নিজের জীবনে এমন সিদ্ধান্ত নিত না। হারুর
মনে প্রেম আছে, আছে ভালোবাসা।
আরও আছে প্রত্যয়; একবার না পারিলে দেখ
শত বার। হারু এই জীবনে আর প্রেম
না করলে হারুর প্রেম এবং বান্ধবী বিষয়ক
স্বপ্নগুলো যে স্মৃতি হয়ে থাকবে,
এইটা হারুর আচরণ বহির্ভূত ঘটনা।
এবং হারুর বান্ধবী এই বার্তা হারুকে পাঠানোর
প্রয়োজন হত না যদি না হারু তার
বান্ধবীকে ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিত। এই
বার্তাটি হারুর কাছে পৈছুবার পূর্বেই হারু তার
বান্ধবীকে ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত
বান্ধবীকে জানিয়ে দিয়েছিল। এতকিছুর
পরে নিজেকে দোষী ভাবিয়া হারুর
লজ্জা লাগে। হারু
স্মৃতি হাতরে মনে করতে পারে যে, সেই
দিন বৃষ্টির দিন ছিল এবং তখন ছিল দুপুর সময়; এমন
সময়ে হারু তার বান্ধবীকে গ্রিন
রোডে একা পাইয়া বিষয়টি পুরাপুরি আলাপ করিল।
হারু তার নিজের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক
অবস্থা বুঝাইয়া বলিয়া এবং একধরনের ব্যক্তিগত
কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া, হারু তার
বান্ধবীকে বুঝাইতে চাইলো; যে সকল
কারণে তাহাদের উভয় পক্ষের উচিত নয় এইরূপ
সম্পর্ক টিকাইয়া রাখার। আসলে,
যে কারণে উভয়ের উচিত
উভয়কে ছেড়ে যাওয়া এবং যে সকল বাস্তব
কারণে হারু ও তার বান্ধবীর এই সম্পর্ক আর
সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
এই সকল ঘটনার শেষটা এই রকম যে,
ততক্ষণে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পরতেছিল এবং হারুর
বান্ধবী সেই বৃষ্টিতে দাঁড়াইয়া ছিলও,
মেয়েটিকে চমৎকার লাগছিলো, ঝির ঝির
বৃষ্টি গালে, মুখে, মাথায়,
শরীরে লেপে যায়। গাল বেয়ে বৃষ্টির
পানি তখন নিম্নগামী, চিবুক
বেয়ে বুকে পরে এবং শরীরে মিলিয়ে যায়।
সেই সাথে তাহাদের মধ্যে শেষ বিদায়
কথা হইল এবং দুজনেই একটু সময় নীরব রইল
এবং দুজনেই বুঝিতে পারিলও, আজ শেষ দিন।
এই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সাথে এই দুজনের
সম্পর্কটা ঝড়তে থাকে। তবে হারু খেয়াল
করেনি এই টপ টপ ঝড়ে পরা বৃষ্টির
সাথে চোখের পানির কোন ধরনের
যোগ ছিলও কি না।
হারুর এই রূপ হটাত করিয়া একধরনের কৃত্রিম সংকট
তৈরি করিয়া এই সম্পর্কের ইতি ঘটানো কোন
প্রয়োজন ছিলও না, যদি না হারু তার বান্ধবীর
বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারিতও।
বিশ্বাসের ঘাটতি হইয়াছে ভালোবাসায়, হারুর
বান্ধবী একটু লজ্জা প্রবল বলিয়াই
হয়তো আজ পর্যন্ত হারুকে নিজ
মুখে বলিতে পারে নাই হারুকে ভালোবাসার
কথা। আর তাতেই হারুর বিশ্বাস নড়বরে হইয়া যায়
এবং একধরনের ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেই
সাথে অভিমান। এই সকল সরল জটিলতায় হারু আর
মাথা ঠিক রাখতে না পারিয়া, একদিন এই রকম
সম্পর্ক আর রাখবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়
এবং একদিন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে হারুর
বান্ধবীকে কাছে পাইয়া গ্রিন রোডের
মাথায় হারু এই সকল সম্পর্ক ছেদ করার প্রস্তাব
দেয়।
হারুর বান্ধবীর এই যে নীরবতা, এই
যে নিশ্চুপ অবস্থা, এই যে ভালোবাসি বলার
দ্বিধা; এই সকল কিছুর জন্য
যাকে দায়ী করা যেতে পারে, এই অনড়
ভালোবাসায় একটু একটু বিষ ঢেলে দেয় যে,
সেটি হারুর পারার একটি সিনেমা হল। হারুর পারার
সকলে যখন আশা করে যে হারু তার
বান্ধবীকে নিয়ে সিনেমায় যাবে তখন
সকলকে অবাক করে দিয়ে হারু পর পর দুই
শুক্র বারে দুইটা মর্নিং শো দেখে হারুর পারার
একটি মেয়েকে নিয়ে, ফলে পারার
লোকজনের চোখে একটু
ধান্দা লাগে এবং পারার লোকজন হিসেবটা ঠিক
ঠাক মিলাতে পারে না। লোকজন আশাহত হয়
এবং মর্নিং শো এর পর বাড়ি যায়। এমন সময়
লোকজন হারুর মনোজগতের পরিবর্তন
বুঝতে পারছিলো না এবং সেই সাথে হারুর
বান্ধবীর প্রতি হারুর ভালোবাসার
গভীরতা বিষয়ক প্রশ্ন তৈরি হয়। এবং এই
সিনেমা হলে মর্নিং শো বিষয়ক অহেতুক
ঘটনাটা ঘটে বলেই হারুর বান্ধবী মুখ
খুলে ততদিনেও
বলতে পারেনি সে হারুকে ভালোবাসে।
ভালোবাসা বিষয়ক হারুর এই অহেতুক ঢিলামির
করনে হারুর বান্ধবী তার ভালোবাসার
কথা পুরোপুরি জানায় নি হারুকে। হারুর পারার
লোকজন ধারনা করে, হারু যদি অন্য মাইয়াটার
সাথে সিনেমায়
মর্নিং শো দেখতে না যাইতও তইলে, হারুর
বান্ধবীর প্রকৃত সম্মতি পাওয়া যেত হারুর
বিষয়ে এবং তখনই হয়তো মেয়েটা মুখ
ফুটে ভালোবাসার
কথাটা বলে ফেলতে পারতো।
হারু কিন্তু তার বান্ধবীকে অনেক
আগে থেকেই মর্নিং শো এ যাবার জন্য
প্রস্তাব দিয়ে আসছিল মাঝে মাঝে জোর
করে ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল আবার
অনেক সময় অনুরোধ করে আসছিল। কিন্তু
হারুর বান্ধবী এই সকল কথা পাশ কাটাইয়া যায়
এবং মর্নিং শো বিষয়ক কথা কানে তুলে না। হারুর
বান্ধবী শুধু পিছলাইয়া যায় আর প্রসঙ্গ পাল্টায়।
হারু
বান্ধবীকে সিনেমা হলে নিয়ে যেতে না
পারার কষ্টে চুর হয়ে থাকে। ইতি মধ্য হারুর
পারার পূর্ব পরিচিত একটি মেয়ে সিনেমা দেখার
ইচ্ছে পোষণ
করতে থাকে এবং একা একা সিনেমা হলে যাবে না
বলেই
হারুকে সাথে নিয়ে মর্নিং শো তে যাবার
সিদ্ধান্তে হারুকে মর্নিং শো দেখার প্রস্তাব
দিলে, হারু সিনেমা দেখার এই সুযোগ হেলায়
হারাতে চায় না। হারুর বান্ধবী যদি হারুর
সাথে সিনেমা দেখতে যাইতও,
তাহলে কি আর সেই পারার মেয়েটা চান্স
পাইতও। হারুর মনে মনে রাগ হয় বান্ধবীর
প্রতি। হারুর বান্ধবী হারুর
সাথে মর্নিং শো তে আসলেই সকল
সমস্যা সমাধান হইয়া যাইতও।
পরিচয়ের পর পরই সিনেমায় যাওয়ার মত কোন
কারণ ছিলও না হারুর বান্ধবীর, তা ছাড়া এই মানুষটার
প্রতি পুরাপুরি বিশ্বাস স্থাপনের পূর্বেই
সিনেমায় যাওয়াটাকে সমোচিন
মনে করে নাই হারুর বান্ধবী। আসলে হারুর
আরেকটু সময় দেয়া উচিত ছিল
বলে মনে করে তার বান্ধবী। হারুই
তো তার বান্ধবীরে নিয়াই সিনেমায় যাইব
কিন্তু একটু সময়ের ব্যাপার আছে না। কিন্তু হারুর
একটুও ধৈর্য নাই। এই কারণে হারুর বান্ধবীর রাগ
হয়। হারু আরেকটু অপেক্ষা করলেই
পারতো।
হারু বুঝতে পারে না, আর কত সময়
লাগে একজন মানুষকে বুঝতে। বহু
দিনতো দুইজন রাস্তায় আর পার্কে প্রেম
কইরা কাটাইলও... আসলে হারুর
বান্ধবী এইটারে প্রেম বলতে নারাজ।
সেইখানেও মতের অমিল আছে দুইজনের।
আসলে শুধু মাত্র অনেকগুলি সময়
একসাথে কাটাইলে কি আর প্রেম হয় নাকি।
প্রেমের জন্য বিশ্বাস, সাধনা আর
সততা লাগে।
এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে হারুর
মনে হইলো এমন একটা কঠিন কাজের
যোগ্যতা হারুর নাই এবং ইচ্ছা আর
সামর্থ্যে অনেক ফারাক আছে। হারুর
মনে পরে প্রথম দেখা হবার দিনের কথা,
মনে পরে দ্বিতীয় দিনের
কথা এবং মনে পরে যায় তৃতীয় এবং চতুর্থ
দিনের কথা। এক এক করে মনে পরে গত তিন
বছর যেই প্রক্রিয়ায় তিল তিল করে হারু তার
বান্ধবীকে নিজের করে নেবার
চেষ্টা চালিয়েছে। তার বান্ধবীর
স্থানচ্যুতি ঘটিয়ে, অবস্থান
থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছিল, হারু
প্রেমের কথা বলে বলে তার
বান্ধবীকে প্রেম করা শিখিয়েছিল, কিন্তু
আবার বান্ধবীকে গাছে চরিয়ে মই
নিয়ে গেছে হারু।
মনে পরে পুরানো বান্ধবীর কথা। হারু
স্মৃতি হাতরে মনে করতে পারে, অন্য
আরেক দিনের কথা। সেই দিনটি তিন বছর
আগের কোন এক দিন, সেই দিনটি বৃষ্টির দিন
ছিল এবং তখন ছিল দুপুর সময়; এমন সময়ে হারু
তার
বান্ধবীকে ধানমন্ডি পার্কে একা পাইয়া বিষয়টি
পুরাপুরি আলাপ করিল। হারু তার নিজের অর্থনৈতিক
এবং রাজনৈতিক অবস্থা বুঝাইয়া বলিয়া এবং একধরনের
ব্যক্তিগত কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া, হারু তার
বান্ধবীকে বুঝাইতে চাইলো; যে সকল
কারণে তাহাদের উভয় পক্ষের উচিত নয় এইরূপ
সম্পর্ক টিকাইয়া রাখার। আসলে,
যে কারণে উভয়ের উচিত
উভয়কে ছেড়ে যাওয়া এবং যে সকল বাস্তব
কারণে হারু ও তার বান্ধবীর এই সম্পর্ক আর
সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
এই সকল ঘটনার শেষটা এই রকম যে,
ততক্ষণে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পরতেছিল এবং হারুর
বান্ধবী সেই বৃষ্টিতে দাঁড়াইয়া ছিলও,
মেয়েটিকে চমৎকার লাগছিলো, ঝির ঝির
বৃষ্টি গালে, মুখে, মাথায়,
শরীরে লেপে যায়। গাল বেয়ে বৃষ্টির
পানি তখন নিম্নগামী, চিবুক
বেয়ে বুকে পরে এবং শরীরে মিলিয়ে যায়।
সেই সাথে তাহাদের মধ্যে শেষ বিদায়
কথা হইল এবং দুজনেই একটু সময় নীরব রইল
এবং দুজনেই বুঝিতে পারিলও, আজ শেষ দিন।
এই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সাথে এই দুজনের
সম্পর্কটা ঝড়তে থাকে। তবে হারু খেয়াল
করেনি এই টপ টপ ঝড়ে পরা বৃষ্টির
সাথে চোখের পানির কোন ধরনের
যোগ ছিলও কি না।
বড় একটি সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্তটি নেবার
পিছনে যেই কারণটি কার্যত ছিল তা হল হারুর
বান্ধবীর পাঠানো একটি বার্তা। গত রাতে হারু
যখন শরীর এবং মনের
ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরেছিল, তখনও হারুর
বান্ধবী শরীর এবং মনের
ক্লান্তিকে সুযোগ
না দিয়ে হারুকে নিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত
ভেবেছিলো এবং প্রায়
শেষরাতে হারুকে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায়
বলা হয় “বাঁধা যেমন কষ্টের, কাটাও তেমন
কষ্টের” অথচ হারুর নিকট এই
বার্তাটি পৌছুতে পৌছুতে তখন সকাল এবং হারু
সবে ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল। এই
বাঁধা আর কাটার চক্করে হারু পড়ে যায়
এবং জীবনে আর প্রেম না করার সিদ্ধান্ত
নেয়।
এই বার্তাটি হারুর কাছে না পৈছালে হয়তো হারু
নিজের জীবনে এমন সিদ্ধান্ত নিত না। হারুর
মনে প্রেম আছে, আছে ভালোবাসা।
আরও আছে প্রত্যয়; একবার না পারিলে দেখ
শত বার। হারু এই জীবনে আর প্রেম
না করলে হারুর প্রেম এবং বান্ধবী বিষয়ক
স্বপ্নগুলো যে স্মৃতি হয়ে থাকবে,
এইটা হারুর আচরণ বহির্ভূত ঘটনা।
এবং হারুর বান্ধবী এই বার্তা হারুকে পাঠানোর
প্রয়োজন হত না যদি না হারু তার
বান্ধবীকে ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিত। এই
বার্তাটি হারুর কাছে পৈছুবার পূর্বেই হারু তার
বান্ধবীকে ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত
বান্ধবীকে জানিয়ে দিয়েছিল। এতকিছুর
পরে নিজেকে দোষী ভাবিয়া হারুর
লজ্জা লাগে। হারু
স্মৃতি হাতরে মনে করতে পারে যে, সেই
দিন বৃষ্টির দিন ছিল এবং তখন ছিল দুপুর সময়; এমন
সময়ে হারু তার বান্ধবীকে গ্রিন
রোডে একা পাইয়া বিষয়টি পুরাপুরি আলাপ করিল।
হারু তার নিজের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক
অবস্থা বুঝাইয়া বলিয়া এবং একধরনের ব্যক্তিগত
কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া, হারু তার
বান্ধবীকে বুঝাইতে চাইলো; যে সকল
কারণে তাহাদের উভয় পক্ষের উচিত নয় এইরূপ
সম্পর্ক টিকাইয়া রাখার। আসলে,
যে কারণে উভয়ের উচিত
উভয়কে ছেড়ে যাওয়া এবং যে সকল বাস্তব
কারণে হারু ও তার বান্ধবীর এই সম্পর্ক আর
সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
এই সকল ঘটনার শেষটা এই রকম যে,
ততক্ষণে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পরতেছিল এবং হারুর
বান্ধবী সেই বৃষ্টিতে দাঁড়াইয়া ছিলও,
মেয়েটিকে চমৎকার লাগছিলো, ঝির ঝির
বৃষ্টি গালে, মুখে, মাথায়,
শরীরে লেপে যায়। গাল বেয়ে বৃষ্টির
পানি তখন নিম্নগামী, চিবুক
বেয়ে বুকে পরে এবং শরীরে মিলিয়ে যায়।
সেই সাথে তাহাদের মধ্যে শেষ বিদায়
কথা হইল এবং দুজনেই একটু সময় নীরব রইল
এবং দুজনেই বুঝিতে পারিলও, আজ শেষ দিন।
এই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সাথে এই দুজনের
সম্পর্কটা ঝড়তে থাকে। তবে হারু খেয়াল
করেনি এই টপ টপ ঝড়ে পরা বৃষ্টির
সাথে চোখের পানির কোন ধরনের
যোগ ছিলও কি না।
হারুর এই রূপ হটাত করিয়া একধরনের কৃত্রিম সংকট
তৈরি করিয়া এই সম্পর্কের ইতি ঘটানো কোন
প্রয়োজন ছিলও না, যদি না হারু তার বান্ধবীর
বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারিতও।
বিশ্বাসের ঘাটতি হইয়াছে ভালোবাসায়, হারুর
বান্ধবী একটু লজ্জা প্রবল বলিয়াই
হয়তো আজ পর্যন্ত হারুকে নিজ
মুখে বলিতে পারে নাই হারুকে ভালোবাসার
কথা। আর তাতেই হারুর বিশ্বাস নড়বরে হইয়া যায়
এবং একধরনের ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেই
সাথে অভিমান। এই সকল সরল জটিলতায় হারু আর
মাথা ঠিক রাখতে না পারিয়া, একদিন এই রকম
সম্পর্ক আর রাখবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়
এবং একদিন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে হারুর
বান্ধবীকে কাছে পাইয়া গ্রিন রোডের
মাথায় হারু এই সকল সম্পর্ক ছেদ করার প্রস্তাব
দেয়।
হারুর বান্ধবীর এই যে নীরবতা, এই
যে নিশ্চুপ অবস্থা, এই যে ভালোবাসি বলার
দ্বিধা; এই সকল কিছুর জন্য
যাকে দায়ী করা যেতে পারে, এই অনড়
ভালোবাসায় একটু একটু বিষ ঢেলে দেয় যে,
সেটি হারুর পারার একটি সিনেমা হল। হারুর পারার
সকলে যখন আশা করে যে হারু তার
বান্ধবীকে নিয়ে সিনেমায় যাবে তখন
সকলকে অবাক করে দিয়ে হারু পর পর দুই
শুক্র বারে দুইটা মর্নিং শো দেখে হারুর পারার
একটি মেয়েকে নিয়ে, ফলে পারার
লোকজনের চোখে একটু
ধান্দা লাগে এবং পারার লোকজন হিসেবটা ঠিক
ঠাক মিলাতে পারে না। লোকজন আশাহত হয়
এবং মর্নিং শো এর পর বাড়ি যায়। এমন সময়
লোকজন হারুর মনোজগতের পরিবর্তন
বুঝতে পারছিলো না এবং সেই সাথে হারুর
বান্ধবীর প্রতি হারুর ভালোবাসার
গভীরতা বিষয়ক প্রশ্ন তৈরি হয়। এবং এই
সিনেমা হলে মর্নিং শো বিষয়ক অহেতুক
ঘটনাটা ঘটে বলেই হারুর বান্ধবী মুখ
খুলে ততদিনেও
বলতে পারেনি সে হারুকে ভালোবাসে।
ভালোবাসা বিষয়ক হারুর এই অহেতুক ঢিলামির
করনে হারুর বান্ধবী তার ভালোবাসার
কথা পুরোপুরি জানায় নি হারুকে। হারুর পারার
লোকজন ধারনা করে, হারু যদি অন্য মাইয়াটার
সাথে সিনেমায়
মর্নিং শো দেখতে না যাইতও তইলে, হারুর
বান্ধবীর প্রকৃত সম্মতি পাওয়া যেত হারুর
বিষয়ে এবং তখনই হয়তো মেয়েটা মুখ
ফুটে ভালোবাসার
কথাটা বলে ফেলতে পারতো।
হারু কিন্তু তার বান্ধবীকে অনেক
আগে থেকেই মর্নিং শো এ যাবার জন্য
প্রস্তাব দিয়ে আসছিল মাঝে মাঝে জোর
করে ধরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল আবার
অনেক সময় অনুরোধ করে আসছিল। কিন্তু
হারুর বান্ধবী এই সকল কথা পাশ কাটাইয়া যায়
এবং মর্নিং শো বিষয়ক কথা কানে তুলে না। হারুর
বান্ধবী শুধু পিছলাইয়া যায় আর প্রসঙ্গ পাল্টায়।
হারু
বান্ধবীকে সিনেমা হলে নিয়ে যেতে না
পারার কষ্টে চুর হয়ে থাকে। ইতি মধ্য হারুর
পারার পূর্ব পরিচিত একটি মেয়ে সিনেমা দেখার
ইচ্ছে পোষণ
করতে থাকে এবং একা একা সিনেমা হলে যাবে না
বলেই
হারুকে সাথে নিয়ে মর্নিং শো তে যাবার
সিদ্ধান্তে হারুকে মর্নিং শো দেখার প্রস্তাব
দিলে, হারু সিনেমা দেখার এই সুযোগ হেলায়
হারাতে চায় না। হারুর বান্ধবী যদি হারুর
সাথে সিনেমা দেখতে যাইতও,
তাহলে কি আর সেই পারার মেয়েটা চান্স
পাইতও। হারুর মনে মনে রাগ হয় বান্ধবীর
প্রতি। হারুর বান্ধবী হারুর
সাথে মর্নিং শো তে আসলেই সকল
সমস্যা সমাধান হইয়া যাইতও।
পরিচয়ের পর পরই সিনেমায় যাওয়ার মত কোন
কারণ ছিলও না হারুর বান্ধবীর, তা ছাড়া এই মানুষটার
প্রতি পুরাপুরি বিশ্বাস স্থাপনের পূর্বেই
সিনেমায় যাওয়াটাকে সমোচিন
মনে করে নাই হারুর বান্ধবী। আসলে হারুর
আরেকটু সময় দেয়া উচিত ছিল
বলে মনে করে তার বান্ধবী। হারুই
তো তার বান্ধবীরে নিয়াই সিনেমায় যাইব
কিন্তু একটু সময়ের ব্যাপার আছে না। কিন্তু হারুর
একটুও ধৈর্য নাই। এই কারণে হারুর বান্ধবীর রাগ
হয়। হারু আরেকটু অপেক্ষা করলেই
পারতো।
হারু বুঝতে পারে না, আর কত সময়
লাগে একজন মানুষকে বুঝতে। বহু
দিনতো দুইজন রাস্তায় আর পার্কে প্রেম
কইরা কাটাইলও... আসলে হারুর
বান্ধবী এইটারে প্রেম বলতে নারাজ।
সেইখানেও মতের অমিল আছে দুইজনের।
আসলে শুধু মাত্র অনেকগুলি সময়
একসাথে কাটাইলে কি আর প্রেম হয় নাকি।
প্রেমের জন্য বিশ্বাস, সাধনা আর
সততা লাগে।
এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে হারুর
মনে হইলো এমন একটা কঠিন কাজের
যোগ্যতা হারুর নাই এবং ইচ্ছা আর
সামর্থ্যে অনেক ফারাক আছে। হারুর
মনে পরে প্রথম দেখা হবার দিনের কথা,
মনে পরে দ্বিতীয় দিনের
কথা এবং মনে পরে যায় তৃতীয় এবং চতুর্থ
দিনের কথা। এক এক করে মনে পরে গত তিন
বছর যেই প্রক্রিয়ায় তিল তিল করে হারু তার
বান্ধবীকে নিজের করে নেবার
চেষ্টা চালিয়েছে। তার বান্ধবীর
স্থানচ্যুতি ঘটিয়ে, অবস্থান
থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছিল, হারু
প্রেমের কথা বলে বলে তার
বান্ধবীকে প্রেম করা শিখিয়েছিল, কিন্তু
আবার বান্ধবীকে গাছে চরিয়ে মই
নিয়ে গেছে হারু।
মনে পরে পুরানো বান্ধবীর কথা। হারু
স্মৃতি হাতরে মনে করতে পারে, অন্য
আরেক দিনের কথা। সেই দিনটি তিন বছর
আগের কোন এক দিন, সেই দিনটি বৃষ্টির দিন
ছিল এবং তখন ছিল দুপুর সময়; এমন সময়ে হারু
তার
বান্ধবীকে ধানমন্ডি পার্কে একা পাইয়া বিষয়টি
পুরাপুরি আলাপ করিল। হারু তার নিজের অর্থনৈতিক
এবং রাজনৈতিক অবস্থা বুঝাইয়া বলিয়া এবং একধরনের
ব্যক্তিগত কৃত্রিম সংকট তৈরি করিয়া, হারু তার
বান্ধবীকে বুঝাইতে চাইলো; যে সকল
কারণে তাহাদের উভয় পক্ষের উচিত নয় এইরূপ
সম্পর্ক টিকাইয়া রাখার। আসলে,
যে কারণে উভয়ের উচিত
উভয়কে ছেড়ে যাওয়া এবং যে সকল বাস্তব
কারণে হারু ও তার বান্ধবীর এই সম্পর্ক আর
সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
এই সকল ঘটনার শেষটা এই রকম যে,
ততক্ষণে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পরতেছিল এবং হারুর
বান্ধবী সেই বৃষ্টিতে দাঁড়াইয়া ছিলও,
মেয়েটিকে চমৎকার লাগছিলো, ঝির ঝির
বৃষ্টি গালে, মুখে, মাথায়,
শরীরে লেপে যায়। গাল বেয়ে বৃষ্টির
পানি তখন নিম্নগামী, চিবুক
বেয়ে বুকে পরে এবং শরীরে মিলিয়ে যায়।
সেই সাথে তাহাদের মধ্যে শেষ বিদায়
কথা হইল এবং দুজনেই একটু সময় নীরব রইল
এবং দুজনেই বুঝিতে পারিলও, আজ শেষ দিন।
এই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সাথে এই দুজনের
সম্পর্কটা ঝড়তে থাকে। তবে হারু খেয়াল
করেনি এই টপ টপ ঝড়ে পরা বৃষ্টির
সাথে চোখের পানির কোন ধরনের
যোগ ছিলও কি না।
Comments
Post a Comment