Skip to main content

নির্বাক পৃত্রিস্নেহ

শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, পুরুষ শাষিত সমাজ বলে পুরুষদের উপরে রাখছি তা নয়।অথবা আধুনিক যুগের নারীদের মনোভাব কে নিচু করছি না।
লেখাটি সম্পুর্ন কাল্পনিক।এমন কি আমি নারী পুরুষ কারো সম্পর্কে না বোধক মনোভাব ব্যাক্ত করছি না।
লেখাটি একজন বাবা আর একটি ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে। মেয়েটির বয়স যখন ১.৫, তখন তার মা তাকে বাবার কাছে ফেলে চলে যায়।
মেয়েটির বয়স এখন ৫।
আত্মিয় সজন ও বন্ধুবান্ধব কে স্ত্রী চলে যাওয়ার কারন বলতে পারবে না বলে মেয়েকে নিয়ে বাবাটি আজ অনেক দুরে।
যেখানে তাদের কেউ চেনে না।
ঘরের কাছে অফিস বলে মেয়ের খাওয়া দাওয়া সব বাবা ই করাতে পারে,
হটাৎ একদিন মেয়ে ল্যাপটপে ছবি দেখতে দেখতে..
মেয়ে: পাপা পাপা, সব ছবিতে আমার মত একটা নয় দুইটা বাবু,  তোমার মত একটা পাপা,আর একটি বড় মেয়ে থাকে, কিন্তু আমাদের ছবিতে বড় মেয়ে নেই কেন?
বিদ্যুৎ স্পর্শের মত ঝাটকা লাগল শুভ্রর।
হুম বাবাটির নাম শুভ্র। এ প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে জানতো কিন্তু এত তারাতারি?
ভাবতে ভাবতে চোখ ছল ছল করে ওঠে।
অনেক কষ্টে নিজেকে মানিয়ে মেয়েকে বোঝায়,  বড় মেয়েটা যদি থাকতো তাহলে আমার এই ছোট্ট নিশি মনি কে এত আদর করতে দিত না। 
বড় শখ করে মেয়েটির নাম রেখে ছিল নিশি।
নিশি: ও তাহলে ভালই হয়েছে। লাগবে না কোন বড় মেয়ে।
শুভ্র সস্তির নি:শাস ফেল্লেও, রাত ভর ঘুমাতে পারে না।
কয়েকদিন বাদে, নিশি বাবাকে জিজ্ঞেস করে বসে,  পাপা পাপা মা কোনটা, আমার মা কোথায়?
চুপ হয়ে যায় শুভ্র, মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ভুল ই করল কিনা, নাহ আর কত দিন।.....
এ ভাবতেই শুভ্রর চোখ দিয়ে আবার জল আসতে শুরু করে,চাপা কষ্ট আর সজন থেকে দুরে থেকে আজ সে ক্লান্ত।
নিশি কিভাবে যেন বুঝতে পারে,বাবা কষ্ট পেয়েছে, 
নিশি: পাপা, সরি আমি আর বলব না মা কোথায়।
বলে জড়িয়ে ধরে বাবাকে।
শুভ্র ভাবতে থাকে এটুকু মেয়ে কষ্টের কি বা বোঝে? যাই হোক পার হয়ে যায় অইদিন।
শুভ্র ভাবে তার মেয়ে অসম্ভব ভাল আর বাবাকে বোঝে বলেই আর হয়তো বলে নি। কিন্তু মেয়ে তো বড় হচ্ছে, এক না এক সময় প্রশ্ন আসবেই,  এর মা কোথায়? 
কি বলবে শুভ্র? 
মরে গেছে না 
চলে গেছে?
চলে গেলে, কেন গেলো?
এ প্রশ্ন থেকে কতদিন পালাবে শুভ্র?
কিছু মন্তব্য: এখানে বাবা না হয়ে মা হলেও পারত।
বাবা পারত মেয়েটাকে কোথাও দিয়ে জীবন শুরু করতে কিন্তু তা করেনি।
সত্যি কথা হল, বাবা মা চাইলেই হওয়া যায় কিন্তু আদর্শ বাবা মা কয়জন হতে পারে? 
আর একজন বাবা, মা কিভাবে তাদের সন্তান ফেলে চলে যেতে পারে?
বিয়ে শুধু কাবিন নামের সাদা কাগজে সাক্ষর করা নয়, সারা জীবন একসাথে থাকার মনের অংিকার ও বটে।
ভাবে নেয়া উচিত যে কোন সন্তান যেন নিশির মত প্রশ্ন করতে না পারে,আর কোন বাবা অথবা মা কে যেন শুভ্রর মত সবার কাছ থেকে লুকিয়ে চোখের জল ফেলতে হয়। লুকিয়ে বাচতে হয়।

Comments

  1. তোমার কবিতাটি খুব ভাল লাগল। আমার স্বা্স্থকথা দেখুন www.healthzonebd.com

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

চরম একটা ভালবাসার গল্প

পড়লে ঠকবেন না, কথা দিচ্ছি অন্যরকম ভালবাসা মিজান দশম শ্রেণীর ছাত্র । শহরের একটা স্কুলে লেখাপড়া করে সে। শুধুমাত্র ওর পড়াশুনার জন্যই পুরো পরিবারের, গ্রাম থেকে এসে এইশহরে থাকা । বাবা চাকরির জন্য এখানে থাকতেপারেন না, সপ্তাহে দু'একদিন আসেন । তাই মা'কেই সামলাতে হয় সংসারের পুরো দায়িত্ব। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই সারা বছর টানা পোড়েন লেগেই থাকে । লেখাপড়া, বাড়ীভাড়া, বাজার-খরচ চালাতে মুটামুটি হিমসিম থেতে হয় তাকে, তার উপর আবার চিরসঙ্গী কোমরের ব্যাথা! শত কষ্টের মাঝেও তিনি নিজের কথা ভুলে ছেলের সকল চাহিদা পূরন করেন। ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ কিছুদিন পর ১৪ই ফেব্রুয়ারী। বন্ধুমহলে আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে,"কে কার প্রিয়জনকে কি gift দেবে?"এই নিয়ে । মিজানের অবশ্য তেমন বিশেষ কেউনেই। কিন্তু সেও gift কেনার জন্য টাকা জমাতে থাকে। সে ঠিক করে, এবার'ভালবাসা দিবসে' মাকে একটা কিছু দিবে । মার্কেটে অনেক ঘুরাঘুরির পর খুবসুন্দর একটা শাড়ী পছন্দ করে মায়ের জন্য । কিন্তু বিপত্তিটা হল দাম নিয়ে! শাড়ীটার দাম লেখা ৭০০/- টাকা.! (একদর)। কিন্তু ওতো এই ক'দিনে টিফিনের টাকা বাঁচিয...

আধুনিক ভালোবাসার গল্প

একটি কঠিন ভালুবাসার কাহিনি... রাজু আর মর্জিনা ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিন চ্যাট করত!রাজু আস্তে আস্তে মর্জিনার প্রতি দুর্বল হতে থাকল!এবং একদিন এই কথাটা মর্জিনাকে বলে দিল!কিন্তু মর্জিনা 'না' করে দিল এবং রাজুর সাথে চ্যাটিং বন্ধ করে দিল! রাজু ভাই দুঃখে ঘাস খাইতে লাগিল!!! (যারা প্রেম করিতে চায়,তারা ঘরু-ঘাস ই খায়)! তার কিছুদিন পর মর্জিনা রাজুকে খুব মিস করিতে লাগিল!... এবং বুঝে গেছে যে সে রাজুর প্রেমে নাকানি- চুবানি খাইতেছে! কিন্তু লজ্জায় মর্জিনাপু কথাটি না বলতে পেরে রাজু সাবকে এক্ষান পিকচার ট্যাগ করিয়ছেনঃ 'আমিও তোমাকে আমার কৈলজা দিয়া দরদ করি' এইরাম টাইপের! বালুবাসা উতলাই পরতেছে!! আর এদিকে রাজু ভাই দুঃখে বিড়ি,সিগেরেট,মদ ,গাজা,বিয়ার,হুইস্কি খাইয়া,সব ট্যাকা- টুকা ফুরাইয়া '০.ফেসবুক.কম' চালাইতেছে! যার কারনে সে মর্জিনাপুর ট্যাগ করুইন্না পিকটা দেখতে পারে নাই!!! (হায় হায়রে )! আর এদিকে মর্জিনা অপেক্ষা করতে করতে দিন,মাস পার করে দিতেছে!তিনার অপেক্ষা রাগে পরিনিত হৈয়া গেছে,তাই তিনি কাইটা পরছেন! কাহিনিটা শেষ হয়নাই,আরেকটু আছেঃ একদিন রাজু ভাইয়ের আইডিটা জুক...

শূন্যতা

""""একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসি... ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের রিলেশন ছিল। ও আমাকে অনেক ভালবাসত,আমিও তাকে অনেক ভালবাসি. আমার রাগ ছিল অনেক, ও আমার রাগ টা কে অনেক বেশি ভয় পেত, সবকিছুই করতে পারত আমার জন্য... ৪ টি বছর শত ঝামেলার, অনেক বাঁধার মধ্যেও রিলেশন টা টিকে থাকে আমাদের, মাসে একবার অনেক কষ্টে ওর সাথে দেখা করার সুযোক হত, কখনো হত না, ওর সাথে আমার ফোন এ কথা হতো না কখনো...প্রতিদিন sms এ রাতে কথা হত। কিছুদিন হল তার সাথে আমার সাথে সব কিছুঁই শেষ হয়ে গেছে... কিভাবে.........? আজ থেকে ২৫ দিন আমাদের ঝগড়া হয়,এই রকম আগেও অনেকবার হয়েছে। সেদিন এর পর থেকে আর কোন কথা হয়নি আমাদের... মাঝখানে ৭ দিন পর সে কষ্টে আছে শুনে একদিন তাকে আমি ম্যাসেজ করি সে আমাকে উল্টাপাল্টা বলায় আমি আবার রেগে যাই. সে তার সব বান্ধবীদের বলে আমি নাকি তার সাথে ব্রেকআপ করেছি... আমার রাগ এর কারণে আবার ও সেদিন তাকে আমি কথা শুনিয়েছিলাম ও আমাকে Sorry বলে কিন্তু তার মুল্য দেইনি ফোন off করে রেখে দেই… গত ২৬ তারিখ রাতে তার আব্বু একটা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়, আমি পাশে থাকতে পারিনি তার... আমার ঢাকায় ও তার পর...